ঢাবির হল সংকট নিরসন ও খাবারের মান উন্নয়নে লিখিত প্রস্তাবনা আহ্বান তারেক রহমানের
- Update Time : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫৫ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর তীব্র সংকট এবং সেখানে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমি সরাসরি আলোচনা করেছি। আলোচনায় উঠে এসেছে, আবাসিক হলগুলোতে সিট সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবারের মানও সন্তোষজনক নয়। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমি ঢাবির ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি, তারা যেন সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রস্তাব ও সুপারিশ সংগ্রহ করে একটি লিখিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এই প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংকট নিরসন, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক ছাত্রজীবনের উন্নয়নের জন্য কার্যকর সমাধান হিসেবে বিএনপির কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও শিক্ষার্থীরা নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি। অনেক শিক্ষার্থী সিট সংকট, খাবারের মানহীনতা, আবাসন সমস্যা এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভুগছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ইতোমধ্যে ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছে যেন তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে।
তারেক রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রাচীনতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবসময় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধান হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের চাহিদা ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করার এই উদ্যোগ বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই ভিডিও বার্তাটি শুধু ছাত্র রাজনীতির জন্য নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সমস্যাগুলো রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আনার একটি প্রচেষ্টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সিট সংকট, খাবারের নিম্নমান, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে সমস্যার সমাধান বের করার উদ্যোগ ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক নেতারা প্রায়ই ছাত্র রাজনীতি ও ক্যাম্পাস ইস্যু নিয়ে কথা বললেও বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। তাই প্রস্তাবনা তৈরির এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সিটসংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের অনেককে করিডর বা ডাইনিং হলে থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগও নতুন নয়; বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের ও পুষ্টিহীন খাবারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে। এ ছাড়া হলগুলোর অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছে।
তারেক রহমানের এই আহ্বান শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, যেখানে তাদের প্রস্তাবনা সরাসরি রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের উদ্যোগকে দেশের শিক্ষা খাতে ভবিষ্যত সংস্কারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।










