সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমান বাংলাদেশের কোটি টাকার টায়ার কেলেঙ্কারি,  ‘বিক্রি’ হয় অন্য এয়ারলাইন্সের কাছে 

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৫২ Time View

09c317cff64a7755db886af35588e119 68a6989245cf0

09c317cff64a7755db886af35588e119 68a6989245cf0

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক উড়োজাহাজে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ায় সংস্থাটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি অস্বস্তিকর ঘটনা, যা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার নিরাপত্তা, সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি ব্যবহৃত টায়ার হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায়। তবে বিষয়টিকে প্রথমে ‘চুরি’ না বলে ‘স্থানান্তর’ হিসেবে উল্লেখ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এই জিডি করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি আনসার্ভিসেবল টায়ার হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে অকশন শেডে রাখা ছিল। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, টায়ারগুলো নিখোঁজ। পরে ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন এবং স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, টায়ারগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অন্য একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এ বি এম রওশন কবীর জানান, ঘটনাটি প্রথমে অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়ে। টায়ারগুলো মূলত অকশনে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দুই কর্মী তা নিয়ম ভঙ্গ করে এক বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় জিডি করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করবে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উড়োজাহাজের টায়ার নিখোঁজের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি জিডি করেছে। পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

বিমানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একেকটি উড়োজাহাজের টায়ারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে। সেই হিসেবে ১০টি টায়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মীরাই কোটি টাকার সম্পদ সরাসরি বিক্রি করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতির একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের এমন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যদি এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে বেচাকেনা হয়, তবে নিরাপত্তা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। এ কারণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিমান বাংলাদেশের কোটি টাকার টায়ার কেলেঙ্কারি,  ‘বিক্রি’ হয় অন্য এয়ারলাইন্সের কাছে 

Update Time : ১২:০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

09c317cff64a7755db886af35588e119 68a6989245cf0

সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক উড়োজাহাজে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ায় সংস্থাটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামনে এসেছে আরেকটি অস্বস্তিকর ঘটনা, যা রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার নিরাপত্তা, সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি ব্যবহৃত টায়ার হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যায়। তবে বিষয়টিকে প্রথমে ‘চুরি’ না বলে ‘স্থানান্তর’ হিসেবে উল্লেখ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এই জিডি করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি আনসার্ভিসেবল টায়ার হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সের পাশে অকশন শেডে রাখা ছিল। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, টায়ারগুলো নিখোঁজ। পরে ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন এবং স্টোর হেলপার সামসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, টায়ারগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অন্য একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এ বি এম রওশন কবীর জানান, ঘটনাটি প্রথমে অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়ে। টায়ারগুলো মূলত অকশনে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দুই কর্মী তা নিয়ম ভঙ্গ করে এক বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় জিডি করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করবে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উড়োজাহাজের টায়ার নিখোঁজের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি জিডি করেছে। পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

বিমানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একেকটি উড়োজাহাজের টায়ারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে। সেই হিসেবে ১০টি টায়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মীরাই কোটি টাকার সম্পদ সরাসরি বিক্রি করে দিয়েছেন।

ঘটনাটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতির একটি বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সের এমন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ যদি এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে বেচাকেনা হয়, তবে নিরাপত্তা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। এ কারণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।