সৌদিতে ‘মুদাদ’ ব্যবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ: তিন মাস বেতন বিলম্বে কোম্পানির সব পরিষেবা স্থগিত
- Update Time : ১১:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ১২১ Time View

সৌদি আরবে অযৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ ও বেতন প্রদানে বিলম্ব রোধে ‘মুদাদ’ নামের একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MHRSD)। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো কর্মীর বেতন অযৌক্তিকভাবে কম বা বেশি নির্ধারণ করা হলে, অথবা নির্ধারিত সময়ে বেতন না দিলে কোম্পানির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে মজুরি সতর্কতা জারি হবে। এমনকি যদি কোনো কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে তিন মাস ধরে কর্মীদের বেতন প্রদানে ব্যর্থ হয়, তবে সেই কোম্পানির সকল পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করে দেওয়া হবে।
মজুরি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ‘মুদাদ’ সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোম্পানির মজুরি সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে। যদি দেখা যায়, বেতন প্রদান সংক্রান্ত তথ্য কোম্পানির অন্যান্য জমা দেওয়া রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে সেটি নির্দেশিকা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং মজুরি সতর্কতা হিসেবে রেকর্ড হবে। তাছাড়া, যদি কোনো কর্মীর মূল বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি কর্তন করা হয়, অথবা মুদাদ প্ল্যাটফর্মে টানা ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বেতন প্রদানের তথ্য আপলোড না করা হয়, সেক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি হবে।
নির্ধারিত ক্ষেত্রে বেতনের তথ্য আপলোড না করা, সময়মতো মজুরি প্রদান না করা, কিংবা বেতন বিতরণের কোনো রেকর্ড না থাকা—এসবকেও অতিরিক্ত লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ২০ দিনের বেশি সময় ধরে মজুরি সুরক্ষা সংক্রান্ত ফাইল জমা না দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে। মুদাদ প্ল্যাটফর্ম নির্দেশিকা ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিদর্শন বিভাগে পাঠিয়ে দেবে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয় বেতন বকেয়া হওয়ার সাথে সাথেই। প্রথমে মুদাদ নিয়োগকর্তাকে একটি স্মরণবার্তা পাঠায়, ১০ দিন পরে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়, আর ১৫তম দিনে জারি হয় চূড়ান্ত সতর্কতা। এরপরও যদি ২০ দিনের মধ্যে ফাইল জমা না হয়, তাহলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন শুরু হয়। বিলম্বের যুক্তি প্রদর্শনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়, আর কর্মীরা পায় তিন দিনের সময়—যাতে তারা যুক্তি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। যদি কর্মীরা প্রতিক্রিয়া না জানায়, তবে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগকর্তার ব্যাখ্যা গ্রহণ করে নেবে।
বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে, যদি কোনো কোম্পানি দুই মাস ধরে বেতন প্রদান না করে, তবে তাদের ওয়ার্ক পারমিট প্রদান ও নবায়ন ছাড়া অন্যান্য সব পরিষেবা স্থগিত করা হবে। আর বিলম্ব যদি তিন মাস অতিক্রম করে, তবে কোম্পানির সব ধরনের পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন কর্মীরা বর্তমান নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই নতুন নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তরিত হতে পারবেন—যদিও পূর্ববর্তী নিয়োগকর্তার কাজের অনুমতির মেয়াদ তখনো বিদ্যমান থাকে।
এভাবে ‘মুদাদ’ ব্যবস্থা সৌদি আরবের শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সময়মতো ও ন্যায্য মজুরি প্রদান নিশ্চিত হয়। এটি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।















