সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে: গোলাম পরওয়ার
- Update Time : ০৫:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৮৫ Time View

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের সময় সরকারের দেওয়া ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়াই নির্বাচনের আয়োজন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের উদ্ভব ঘটাতে পারে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত আবাসিক এলাকায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশে ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদ’কে আইনি ভিত্তি প্রদান করে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ করা হয়। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা আসতে পারে। তিনি যুক্তি দেখান, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনুকূলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ যদি অবাধ ও নির্বিঘ্নভাবে ভোট দিতে পারে, তাহলে ইসলামী আদর্শের শক্তিকেই নির্বাচন মাধ্যমে দেশের পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করবে।
গোলাম পরওয়ার সমাবেশে আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট ও বাকশালী আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের আলেম-ওলামাদের ওপর যে জুলুম ও দমন চালানো হয়েছিল, তা ইতিহাসের কুখ্যাত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র ও জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেই সরকারের লজ্জাজনক পতন হয়েছে। তাই আগামী আগস্ট বিপ্লবকে অর্থবহ ও টেকসই করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি সতর্ক করেন যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্বৈরাচারের অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে হবে এবং নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে, যেন দেশের ভোটব্যবস্থায় একটি গণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটানো যায়।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশের জনগণ এখন ইসলামী দলগুলোকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা অচিরেই বাস্তবায়িত হবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, কোনো ষড়যন্ত্রই জনতার বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে জনগণের মুখে দুটি স্লোগান ঘোরছে—‘নতুন বাংলাদেশ’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আরাফাত নগরের চকমথুরাবাদ ভোট কেন্দ্র কমিটির সভাপতি মো. মতিউর রহমান হাওলাদার। এছাড়া, নগরীর হরিণটানা থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আমির হোসাইনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, হরিণটানা থানা আমীর আব্দুল গফুর, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেবক প্রসাদ এবং সোনাডাঙ্গা থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা জাহিদুর রহমান নাঈম প্রমুখ।










