সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণহত্যার বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৭৩ Time View

1754904448 6f7f04f3b584c84fdfce98370f93906b

1754904448 6f7f04f3b584c84fdfce98370f93906b

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার জন্য দায়ীদের কেউই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করেছিলেন বাংলাদেশে প্রকাশ্য গণহত্যা চালিয়ে পার পাওয়া যাবে, কিংবা প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করা যাবে—তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। অপরাধীরা যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন, ন্যায়বিচারের শিকল তাদের গলায় পড়বেই, আর বিচারকাজ কোনোভাবেই থামবে না।

আজ সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রাজধানীর চাঁনখারপুলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারাধীন রাখা হবে এবং এর বিচার দ্রুততর করা হবে। এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনও করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, “যেসব তরুণ নিজের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে দ্বিতীয়বারের মতো মুক্ত করেছেন, তাদের স্বজনরা আজও বেঁচে আছেন। তাদের হৃদয়ে বয়ে চলা ক্ষত ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেড় হাজারেরও বেশি শহিদের আত্মত্যাগ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা—এবং আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয় চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে হাজির হন শহিদ আনাসের বাবা পলাশ, যিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দিনটির ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, আনাসের মা-ও সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যিনি সন্তানের হত্যার পর পরিবার যে অসহনীয় মানসিক ও সামাজিক যন্ত্রণা ভোগ করছে তা আবেগঘন কণ্ঠে বর্ণনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের এই হত্যাযজ্ঞ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত গণহত্যা, যা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য পরিচালিত হয়েছিল। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে—এতে কোনো প্রকার আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার নয়, বরং দেশের সার্বিক বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও কঠোরভাবে সম্পন্ন হলে এটি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুলাই গণহত্যার বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না: চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

Update Time : ০৫:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

1754904448 6f7f04f3b584c84fdfce98370f93906b

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার জন্য দায়ীদের কেউই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করেছিলেন বাংলাদেশে প্রকাশ্য গণহত্যা চালিয়ে পার পাওয়া যাবে, কিংবা প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করা যাবে—তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। অপরাধীরা যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন, ন্যায়বিচারের শিকল তাদের গলায় পড়বেই, আর বিচারকাজ কোনোভাবেই থামবে না।

আজ সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, রাজধানীর চাঁনখারপুলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারাধীন রাখা হবে এবং এর বিচার দ্রুততর করা হবে। এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনও করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, “যেসব তরুণ নিজের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে দ্বিতীয়বারের মতো মুক্ত করেছেন, তাদের স্বজনরা আজও বেঁচে আছেন। তাদের হৃদয়ে বয়ে চলা ক্ষত ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেড় হাজারেরও বেশি শহিদের আত্মত্যাগ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা—এবং আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয় চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে হাজির হন শহিদ আনাসের বাবা পলাশ, যিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দিনটির ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি, আনাসের মা-ও সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যিনি সন্তানের হত্যার পর পরিবার যে অসহনীয় মানসিক ও সামাজিক যন্ত্রণা ভোগ করছে তা আবেগঘন কণ্ঠে বর্ণনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের এই হত্যাযজ্ঞ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত গণহত্যা, যা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য পরিচালিত হয়েছিল। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে—এতে কোনো প্রকার আপস বা ছাড় দেওয়া হবে না।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার নয়, বরং দেশের সার্বিক বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও কঠোরভাবে সম্পন্ন হলে এটি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।