সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল: এনবিআরের সতর্কবার্তা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৩৪ Time View

1753394015854

 

1753394015854

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্ট করে জানিয়েছে—ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা যদি তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্নে ‘শূন্য’ বা জিরো আয়, ব্যয়, সম্পদ এবং দায় দেখিয়ে রিটার্ন জমা দেন, তা আইনত একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট) এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এই সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত। এই রিটার্নে করদাতার সারা বছরের প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের সঠিক বিবরণ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

আইন কী বলছে

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়কর আইনের ৩১২ ও ৩১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—যদি কোনো করদাতা তার রিটার্নে আয়, ব্যয়, সম্পদ বা দায়–সংক্রান্ত কোনো একটি তথ্য বা সবগুলোই ইচ্ছাকৃতভাবে ‘শূন্য’ হিসেবে প্রদর্শন করেন, তবে তা মিথ্যা বা অসত্য তথ্য প্রদান হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এটি কর ফাঁকি দেওয়ার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি

এনবিআরের নজরে এসেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জিরো রিটার্ন’ বা শূন্য আয়ের রিটার্ন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, রিটার্ন ফরমের সব ঘর ‘শূন্য’ দিয়ে পূরণ করলেও তা বৈধভাবে গ্রহণযোগ্য। এনবিআর বলছে, এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং এই ধরনের পরামর্শে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক করদাতা আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন।

জিরো রিটার্নআইনে নেই

সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ নামে কোনো ধারা বা বিধান নেই। করদাতার প্রকৃত আয় আইন অনুযায়ী করযোগ্য না হলেও, রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কর শূন্য হলেও প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় প্রদর্শন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে সব ঘরে ‘শূন্য’ বসানো যাবে না।

করদাতার

দায়িত্ব নাগরিক কর্তব্য

এনবিআরের মতে, সঠিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু একটি আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য। করদাতারা দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো গঠনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন—তাই রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদান করে গর্বিত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর অনলাইন প্রচারণার ফাঁদে না পড়তে এবং নিজেকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড থেকে সুরক্ষিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে।

পরিসংখ্যান

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রায় ১৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কোনো কর প্রদান করেননি, যদিও রিটার্ন জমা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১২ লাখ ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে বছরে প্রায় ৪০ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি অর্থবছর থেকে সকল করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল: এনবিআরের সতর্কবার্তা

Update Time : ০২:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

 

1753394015854

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্ট করে জানিয়েছে—ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা যদি তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্নে ‘শূন্য’ বা জিরো আয়, ব্যয়, সম্পদ এবং দায় দেখিয়ে রিটার্ন জমা দেন, তা আইনত একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রোববার (১০ আগস্ট) এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর এই সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত। এই রিটার্নে করদাতার সারা বছরের প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের সঠিক বিবরণ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

আইন কী বলছে

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আয়কর আইনের ৩১২ ও ৩১৩ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—যদি কোনো করদাতা তার রিটার্নে আয়, ব্যয়, সম্পদ বা দায়–সংক্রান্ত কোনো একটি তথ্য বা সবগুলোই ইচ্ছাকৃতভাবে ‘শূন্য’ হিসেবে প্রদর্শন করেন, তবে তা মিথ্যা বা অসত্য তথ্য প্রদান হিসেবে গণ্য হবে এবং এজন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এটি কর ফাঁকি দেওয়ার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি

এনবিআরের নজরে এসেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জিরো রিটার্ন’ বা শূন্য আয়ের রিটার্ন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, রিটার্ন ফরমের সব ঘর ‘শূন্য’ দিয়ে পূরণ করলেও তা বৈধভাবে গ্রহণযোগ্য। এনবিআর বলছে, এসব ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং এই ধরনের পরামর্শে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক করদাতা আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন।

জিরো রিটার্নআইনে নেই

সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, আয়কর আইনে ‘জিরো রিটার্ন’ নামে কোনো ধারা বা বিধান নেই। করদাতার প্রকৃত আয় আইন অনুযায়ী করযোগ্য না হলেও, রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কর শূন্য হলেও প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় প্রদর্শন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে সব ঘরে ‘শূন্য’ বসানো যাবে না।

করদাতার দায়িত্ব নাগরিক কর্তব্য

এনবিআরের মতে, সঠিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু একটি আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য। করদাতারা দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামো গঠনে প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন—তাই রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদান করে গর্বিত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর অনলাইন প্রচারণার ফাঁদে না পড়তে এবং নিজেকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড থেকে সুরক্ষিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে।

পরিসংখ্যান

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রায় ১৭ লাখ করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কোনো কর প্রদান করেননি, যদিও রিটার্ন জমা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১২ লাখ ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে বছরে প্রায় ৪০ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি অর্থবছর থেকে সকল করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।