জেফরি এপস্টেইনের বাড়িতে মিলল সৌদি যুবরাজের ছবি: অনলাইনে সমালোচনার ঝড়
- Update Time : ১০:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
- / ১১৮ Time View

বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও নিন্দিত শিশু যৌন নিপীড়ক এবং নারী পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের নিউইয়র্কের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে এবার পাওয়া গেছে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) একটি ছবি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক ও ব্যাপক সমালোচনা।
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে নতুন মোড়
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের সাততলা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাড়ির ভেতরে রাখা একটি শোকেসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি ফ্রেম করা ছবি দেখা গেছে। ছবিটির উপস্থিতি নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে—এই ছবি কি শুধুই নিছক সৌজন্যমূলক? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো সম্পর্ক কিংবা রহস্য?
প্রাসাদতুল্য বাসভবনের ভিতরের অন্ধকার জগত
জেফরি এপস্টেইনের বাড়ি সম্পর্কে বলা হয়, এটি ছিল এক অদ্ভুত ও রহস্যময় জগত। সেখানে নজরদারি ক্যামেরায় পূর্ণ শয়নকক্ষ, উসকানিমূলক ভাস্কর্য, স্টাফ করা প্রাণীর দেহ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শিল্পকর্মে পূর্ণ ছিল বাড়ির প্রতিটি কোণ। বিশাল এ ভবনের প্রতিটি তলা যেন ছিল একেকটি গোপন কাহিনির ধারক। এমন এক ঘনঘোর নৈতিক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে একজন প্রভাবশালী রাজপরিবারের সদস্যের ছবি পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ জনগণের মনে সন্দেহ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
বিতর্কিত অতীত ও রহস্যময় মৃত্যু
শিশুদের যৌন নিপীড়নের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হন। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নিউইয়র্কের এক কারাগারে তাঁর মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। যদিও এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছিল, অনেকেই এ ঘটনাকে হত্যা বলে সন্দেহ করেন। এর আগে ২০০৮ সালে এক শিশুকে যৌনকর্মে বাধ্য করার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও মাত্র ১৩ মাসের কারাদণ্ড পান এপস্টেইন, যা ‘সাজা হ্রাস আইনের’ মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে প্রভাবশালীদের চাপের ফল বলে ধারণা করা হয়।

অনলাইনে প্রতিক্রিয়া ও বিদ্রূপ
সৌদি যুবরাজের ছবি প্রকাশের পরপরই টুইটার, রেডিট এবং ইনস্টাগ্রামে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করলেও কেউ কেউ বিষয়টিকে অবাক হওয়ার মতো কিছু মনে করেননি। এক ব্যবহারকারী স্মরণ করিয়ে দেন, এমবিএস অতীতেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে দেখা গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন লবিস্ট জর্জ আরেফ নাদেরের সঙ্গে যুবরাজের আরেকটি পুরনো ছবি, যিনি নিজেও শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডিত।
আরেকজন মন্তব্য করেন, “যখন মোহাম্মদ বোন–স (এমবিএস-এর প্রতি ব্যঙ্গাত্মক ইঙ্গিত) সাংবাদিকদের অ্যাসিডে গলিয়ে দিচ্ছেন না, তখন তাঁকে শিশু নিপীড়কদের সঙ্গেই দেখা যায়।” এই মন্তব্যে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয় ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের দিকে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত এবং এমবিএস-এর ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তা, নাকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক?
ছবিটির উপস্থিতি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—এই ছবি কি নিছকই সৌজন্যমূলক সম্পর্কের ফল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে সৌদি রাজপরিবার ও এপস্টেইনের মধ্যে কোনো ধরনের প্রভাব, যোগাযোগ বা লেনদেন? যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ কিংবা যুবরাজের দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ইস্যুতে তদন্ত দাবি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেফরি এপস্টেইনের বাড়ি থেকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবি উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্বমিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একটি ছবি নয়, বরং এটি ক্ষমতা, বিতর্ক এবং অপরাধের মধ্যকার জটিল সম্পর্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ছবি এখন প্রশ্ন তুলেছে—কে কার সঙ্গে যুক্ত, কীভাবে, এবং কেন? সময়ই বলবে, এই ছবি শুধু একটি কাকতালীয় আলোকচিত্র ছিল, না কি একটি গভীর রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মেলবন্ধনের চিহ্ন।










