আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আবেগঘন স্ট্যাটাসে টিএসসিতে ফিরল সাঈদীর ছবি
- Update Time : ০৬:০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
- / ৩১২ Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন টিএসসিতে আবারও আলোচনায় ফিরে এল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি। এবার ছবিটি স্থান পেয়েছে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরদিন, ১৫ আগস্ট, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, দুই যুবক—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকরাম—সাঈদীর মৃত্যুতে নিজেদের গভীর শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
শহীদ আবু সাঈদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন,
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক। বিদায় হে রাহবার।”
অন্যদিকে, শহীদ ওয়াসিম তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছিলেন,
“একজনের মৃত্যুতে দেশব্যাপী অঘোষিত শোক চলছে, আরেকজনের আনুষ্ঠানিক শোকেও মানুষের শোক হয় না। ধর্মীয় ব্যক্তি ও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তির মধ্যে এটাই উজ্জ্বল উদাহরণ। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কোটি মানুষের মনি কোঠায়।”
এই স্ট্যাটাসগুলো সংরক্ষণ করে প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে এই দুই শহীদের পোস্টের স্ক্রিনশট আকারে সংযুক্ত করে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্রশিবিরের আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে আরও কয়েকজন যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির—যেমন মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী—ছবিও স্থান পেয়েছিল। এই আয়োজন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো। তারা একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিতর্কিত ছবি ও উপস্থাপনাগুলো সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ছাত্রশিবির তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। পরদিন, ৬ আগস্ট, তারা নতুনভাবে একটি প্রদর্শনী আয়োজন করে, যেখানে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য, বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, ভুয়া সাক্ষীর জবানবন্দি সংক্রান্ত নানা তথ্যচিত্র ও ছবি টানিয়ে দেওয়া হয়।
সেই ধারাবাহিকতায় ৭ আগস্টের প্রদর্শনীতে ছাত্রশিবির তাদের অবস্থানকে আরও আবেগঘন ও রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিম আকরামের ফেসবুক স্ট্যাটাস প্রদর্শনের মাধ্যমে। তাদের এই প্রদর্শনীতে সাঈদীর ছবি, তার মৃত্যুতে দেওয়া স্ট্যাটাস এবং পোস্টগুলো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুনরায় মতাদর্শিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে ছাত্রশিবির সাঈদীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো যুদ্ধাপরাধীদের গৌরবদানের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওয়াসিমের মতো তরুণদের মতামত এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আড়ালে ছাত্রশিবির নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। এটি শুধু সাঈদীর স্মৃতিচারণ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী মতাদর্শিক লড়াইয়ের অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি—একদিকে বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধের নৈতিক দায় ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান। টিএসসি যেন এ দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।










