সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ঘণ্টায় ভেঙে পড়তে পারে ইসরাইলের নিরাপত্তা বলয়

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২১৫ Time View

হিজবুল্লাহ 20250806104527

হিজবুল্লাহ 20250806104527

‘এক ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ধসে পড়তে পারে ইসরাইলের নিরাপত্তা’—এভাবে ইসরাইলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল যে নিরাপত্তা বলয় বিগত কয়েক মাসে জোরদার করার চেষ্টা করেছে, সেটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) বৈরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটি ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদির স্মরণে। বক্তৃতায় নাঈম কাসেম বলেন, “লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত, সজ্জিত এবং প্রস্তুত। আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যে কোনো মুহূর্তে প্রতিরোধে নামতে প্রস্তুত।”

তিনি আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এ ধরনের দাবি মূলত লেবাননকে দুর্বল করে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কৌশল। যদি প্রতিরোধ শক্তি নিরস্ত্র হয়ে যায়, তাহলে লেবাননের সীমান্ত, আকাশসীমা কিংবা জনগণকে রক্ষা করবে কে? ইসরাইলি নেতারাও স্বীকার করেছে যে, যতদিন হিজবুল্লাহ অস্ত্র ছাড়বে না, ততদিন তারা নিজেদের হামলা বন্ধ করবে না। এর অর্থ স্পষ্ট—প্রতিরোধ ছাড়া লেবাননের অস্তিত্ব সুরক্ষিত নয়।”

নাঈম কাসেম প্রয়াত জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি শুধু ইরানের নায়ক নন, বরং ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন এবং লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তির অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। আল-আকসা অভিযানে ইজাদির অবদানকে তিনি ‘অলৌকিক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বৈরুত বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হিজবুল্লাহ চায় সত্য উদঘাটিত হোক, দোষীরা শাস্তি পাক এবং এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধ হোক।”

এ সময় তিনি মার্কিন প্রতিনিধি টম ব্যারাকের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, “এ ধরনের প্রস্তাব লেবাননের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কেবল ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র চায় না লেবাননের সেনাবাহিনী এমন কোনো আধুনিক অস্ত্র অর্জন করুক যা ইসরাইলের জন্য হুমকি হতে পারে। আর এই কারণেই হিজবুল্লাহর ওপর অস্ত্র ত্যাগের চাপ বাড়ানো হচ্ছে।”

শেষে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসরাইলের নিরাপত্তা কোনোভাবেই স্থায়ী নয়। যে প্রতিরক্ষা বলয় তারা গড়ে তুলেছে, সেটি মাত্র এক ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না, আর আমরা প্রস্তুত আছি যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।”

সূত্র: মেহের নিউজ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক ঘণ্টায় ভেঙে পড়তে পারে ইসরাইলের নিরাপত্তা বলয়

Update Time : ১১:৪৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

হিজবুল্লাহ 20250806104527

‘এক ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ধসে পড়তে পারে ইসরাইলের নিরাপত্তা’—এভাবে ইসরাইলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর উপ-মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল যে নিরাপত্তা বলয় বিগত কয়েক মাসে জোরদার করার চেষ্টা করেছে, সেটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) বৈরুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটি ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদির স্মরণে। বক্তৃতায় নাঈম কাসেম বলেন, “লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত, সজ্জিত এবং প্রস্তুত। আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যে কোনো মুহূর্তে প্রতিরোধে নামতে প্রস্তুত।”

তিনি আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এ ধরনের দাবি মূলত লেবাননকে দুর্বল করে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার কৌশল। যদি প্রতিরোধ শক্তি নিরস্ত্র হয়ে যায়, তাহলে লেবাননের সীমান্ত, আকাশসীমা কিংবা জনগণকে রক্ষা করবে কে? ইসরাইলি নেতারাও স্বীকার করেছে যে, যতদিন হিজবুল্লাহ অস্ত্র ছাড়বে না, ততদিন তারা নিজেদের হামলা বন্ধ করবে না। এর অর্থ স্পষ্ট—প্রতিরোধ ছাড়া লেবাননের অস্তিত্ব সুরক্ষিত নয়।”

নাঈম কাসেম প্রয়াত জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ ইজাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি শুধু ইরানের নায়ক নন, বরং ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন এবং লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তির অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। আল-আকসা অভিযানে ইজাদির অবদানকে তিনি ‘অলৌকিক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

বৈরুত বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হিজবুল্লাহ চায় সত্য উদঘাটিত হোক, দোষীরা শাস্তি পাক এবং এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বন্ধ হোক।”

এ সময় তিনি মার্কিন প্রতিনিধি টম ব্যারাকের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, “এ ধরনের প্রস্তাব লেবাননের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কেবল ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র চায় না লেবাননের সেনাবাহিনী এমন কোনো আধুনিক অস্ত্র অর্জন করুক যা ইসরাইলের জন্য হুমকি হতে পারে। আর এই কারণেই হিজবুল্লাহর ওপর অস্ত্র ত্যাগের চাপ বাড়ানো হচ্ছে।”

শেষে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইসরাইলের নিরাপত্তা কোনোভাবেই স্থায়ী নয়। যে প্রতিরক্ষা বলয় তারা গড়ে তুলেছে, সেটি মাত্র এক ঘণ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না, আর আমরা প্রস্তুত আছি যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য।”

সূত্র: মেহের নিউজ