সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেল আবিবে বন্দিমুক্তির দাবিতে উত্তাল হাজারো ইসরায়েলি

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৭৪ Time View

1754188042 e5684590efa91e36753a1c6900740ff2

1754188042 e5684590efa91e36753a1c6900740ff2

গাজা উপত্যকায় আটক ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তির দাবিতে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে ‘হোস্টেজ স্কয়ার’-এ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই বিক্ষোভে অংশ নেয় বন্দিদের পরিবারের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দ্রুত একটি কার্যকর বন্দি বিনিময় চুক্তি করার জন্য ইসরায়েল সরকারকে চাপ দিতে একাট্টা হন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদন উল্লেখ করে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন যে গাজায় আটক সব বন্দিকে মুক্ত করতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, আর বন্দিরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

ইসরায়েলি চ্যানেল চ্যানেল ১২ জানায়, সন্ধ্যার বিক্ষোভটি ছিল দিনের দ্বিতীয় আয়োজন। এর আগে সকালে একই শহরে কয়েকশো মানুষ একটি ক্ষুদ্র পরিসরের প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল। তবে সন্ধ্যার মূল বিক্ষোভটি ছিল আরও বৃহৎ এবং সুসংগঠিত, যা আয়োজন করে ‘হোস্টেজ ফ্যামিলিজ ফোরাম’। এই ফোরাম গঠিত হয়েছে গাজায় আটক বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, যারা একত্রিত হয়ে সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন বন্দিমুক্তির জন্য।

বন্দি এভিয়াতার ডেভিড-এর বোন বিক্ষোভে এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার ভাই এখন ভীষণ অসুস্থ। তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। আমরা আর সময় নষ্ট করতে পারি না। আমি ইসরায়েল সরকার, জনগণ এবং বিশ্বের নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানাই—আমার ভাইসহ গাজায় আটক সব বন্দির জন্য এখনই পদক্ষেপ নিন। তারা যেন অন্তত চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত খাদ্য পায়।”

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, সম্প্রতি ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বন্দি এভিয়াতার ডেভিড ও রোম ব্রাসলাভস্কির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তারা চরম দুর্দশায় রয়েছে এবং শারীরিক-মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এই ভিডিও ইসরায়েলি জনমনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং এরপরই বিক্ষোভের ডাক আসে।

বিক্ষোভে আরেক বন্দির স্বজন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, “আপনি আমাদের সন্তানদের অবহেলা করেছেন। আপনি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কল্পকাহিনি তৈরি করেছেন। বন্দিদের মুক্তির প্রতিটি সুযোগ আপনি হাতছাড়া করেছেন। এখন তারই চরম মূল্য দিচ্ছে আমাদের পরিবার। আমাদের আর ধৈর্য নেই।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান, যেখানে লেখা ছিল—“আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনুন”, “চুক্তি করুন, সময় নেই”, “বন্দিদের অবস্থা ভয়াবহ”, “মানবতা আগে”। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে সরকারের নীতির প্রতিবাদ করেন এবং দ্রুত কার্যকর বন্দি বিনিময়ের দাবি জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস এবং গাজা পরিস্থিতির জটিলতা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহানুভূতিশীল হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান পাওয়া কঠিন হবে বলেও অনেকের মত।

বিক্ষোভের মাধ্যমে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—ইসরায়েলি জনগণ আর বন্দিদের মুক্তির প্রশ্নে ধৈর্য হারাতে নারাজ। তারা দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধান চান। আর সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই আন্দোলন আরও ব্যাপক ও সংগঠিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তেল আবিবে বন্দিমুক্তির দাবিতে উত্তাল হাজারো ইসরায়েলি

Update Time : ১০:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

1754188042 e5684590efa91e36753a1c6900740ff2

গাজা উপত্যকায় আটক ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তির দাবিতে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে ‘হোস্টেজ স্কয়ার’-এ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই বিক্ষোভে অংশ নেয় বন্দিদের পরিবারের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে দ্রুত একটি কার্যকর বন্দি বিনিময় চুক্তি করার জন্য ইসরায়েল সরকারকে চাপ দিতে একাট্টা হন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সি তাদের এক প্রতিবেদন উল্লেখ করে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন যে গাজায় আটক সব বন্দিকে মুক্ত করতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, আর বন্দিরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

ইসরায়েলি চ্যানেল চ্যানেল ১২ জানায়, সন্ধ্যার বিক্ষোভটি ছিল দিনের দ্বিতীয় আয়োজন। এর আগে সকালে একই শহরে কয়েকশো মানুষ একটি ক্ষুদ্র পরিসরের প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল। তবে সন্ধ্যার মূল বিক্ষোভটি ছিল আরও বৃহৎ এবং সুসংগঠিত, যা আয়োজন করে ‘হোস্টেজ ফ্যামিলিজ ফোরাম’। এই ফোরাম গঠিত হয়েছে গাজায় আটক বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, যারা একত্রিত হয়ে সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন বন্দিমুক্তির জন্য।

বন্দি এভিয়াতার ডেভিড-এর বোন বিক্ষোভে এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমার ভাই এখন ভীষণ অসুস্থ। তার অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। আমরা আর সময় নষ্ট করতে পারি না। আমি ইসরায়েল সরকার, জনগণ এবং বিশ্বের নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন জানাই—আমার ভাইসহ গাজায় আটক সব বন্দির জন্য এখনই পদক্ষেপ নিন। তারা যেন অন্তত চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত খাদ্য পায়।”

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, সম্প্রতি ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, বন্দি এভিয়াতার ডেভিড ও রোম ব্রাসলাভস্কির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তারা চরম দুর্দশায় রয়েছে এবং শারীরিক-মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এই ভিডিও ইসরায়েলি জনমনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং এরপরই বিক্ষোভের ডাক আসে।

বিক্ষোভে আরেক বন্দির স্বজন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, “আপনি আমাদের সন্তানদের অবহেলা করেছেন। আপনি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কল্পকাহিনি তৈরি করেছেন। বন্দিদের মুক্তির প্রতিটি সুযোগ আপনি হাতছাড়া করেছেন। এখন তারই চরম মূল্য দিচ্ছে আমাদের পরিবার। আমাদের আর ধৈর্য নেই।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান, যেখানে লেখা ছিল—“আমাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনুন”, “চুক্তি করুন, সময় নেই”, “বন্দিদের অবস্থা ভয়াবহ”, “মানবতা আগে”। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে সরকারের নীতির প্রতিবাদ করেন এবং দ্রুত কার্যকর বন্দি বিনিময়ের দাবি জানান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস এবং গাজা পরিস্থিতির জটিলতা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহানুভূতিশীল হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান পাওয়া কঠিন হবে বলেও অনেকের মত।

বিক্ষোভের মাধ্যমে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে—ইসরায়েলি জনগণ আর বন্দিদের মুক্তির প্রশ্নে ধৈর্য হারাতে নারাজ। তারা দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধান চান। আর সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই আন্দোলন আরও ব্যাপক ও সংগঠিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।