সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু শেখ হাসিনা—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৪৯ Time View

1754215501 9443f14a57a56ea760ac95b063785852

1754215501 9443f14a57a56ea760ac95b063785852

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র ও জনতার গণআন্দোলনের সময় যেসব হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলাটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এর পর বক্তব্য রাখেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি পরিকল্পিত সহিংস রাজনৈতিক কৌশল, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখা। সেই সময় যারা মাঠে ছিল, তারা শেখ হাসিনার নির্দেশে কিংবা তার আশীর্বাদে কাজ করছিল। এ কারণেই তিনি শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে দায়ী।”

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে উঠে আসে, যারা সেই সময়ের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায় কাজ করছিল। তিনি বলেন, “তাদের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা গেলেই তারা পুরস্কৃত হবে, আর না পারলে তারা চরম বিপদের মুখে পড়বে। এভাবে একটি গোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত করা হয়েছিল, যা ছিল রাষ্ট্রবিরোধী এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

প্রসিকিউটর আরও জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৬ আগস্ট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ১ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এরপর ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। আজকের শুনানি ছিল মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন উপলক্ষে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলার প্রত্যেক অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই গণঅভ্যুত্থানকে রক্তাক্ত করেছে, তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

উল্লেখ্য, এই মামলাকে ঘিরে দেশে-বিদেশে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অপর পক্ষ বলছে, দীর্ঘদিনের অপরাধের বিচার হওয়া উচিত, যে অপরাধগুলো গণমানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।

এই মামলা এবং শুনানি ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ও বিচারব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য এবং মামলার গুরুত্ব এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২০২৫ সালের বিচার ইতিহাসে এটি হতে পারে একটি মাইলফলক অধ্যায়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু শেখ হাসিনা—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

Update Time : ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

1754215501 9443f14a57a56ea760ac95b063785852

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র ও জনতার গণআন্দোলনের সময় যেসব হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলাটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এর পর বক্তব্য রাখেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি পরিকল্পিত সহিংস রাজনৈতিক কৌশল, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখা। সেই সময় যারা মাঠে ছিল, তারা শেখ হাসিনার নির্দেশে কিংবা তার আশীর্বাদে কাজ করছিল। এ কারণেই তিনি শুধু রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে দায়ী।”

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে উঠে আসে, যারা সেই সময়ের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শেখ হাসিনার ছত্রছায়ায় কাজ করছিল। তিনি বলেন, “তাদের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা গেলেই তারা পুরস্কৃত হবে, আর না পারলে তারা চরম বিপদের মুখে পড়বে। এভাবে একটি গোষ্ঠীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত করা হয়েছিল, যা ছিল রাষ্ট্রবিরোধী এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”

প্রসিকিউটর আরও জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৬ আগস্ট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ১ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। এরপর ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। আজকের শুনানি ছিল মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন উপলক্ষে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলার প্রত্যেক অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই গণঅভ্যুত্থানকে রক্তাক্ত করেছে, তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

উল্লেখ্য, এই মামলাকে ঘিরে দেশে-বিদেশে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অপর পক্ষ বলছে, দীর্ঘদিনের অপরাধের বিচার হওয়া উচিত, যে অপরাধগুলো গণমানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।

এই মামলা এবং শুনানি ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ও বিচারব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য এবং মামলার গুরুত্ব এটুকু স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ২০২৫ সালের বিচার ইতিহাসে এটি হতে পারে একটি মাইলফলক অধ্যায়।