“জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করতে হবে”—ছাত্র সমাবেশে তারেক রহমান
- Update Time : ০৬:২৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৫১ Time View

রাজনীতি হোক উন্নয়নভিত্তিক, প্রথাগত ছাত্র রাজনীতি নয়—এটাই সময়ের দাবি—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত ছাত্রদলের এক ‘ছাত্র সমাবেশে’ এসব কথা বলেন। এই সমাবেশটি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ কথার রাজনীতির সময় শেষ। এখন সময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করার। বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—জনগণের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে বাস্তবিক পরিবর্তন আনা।”
তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রথাগত ছাত্র রাজনীতি, যেখানে দলীয় স্লোগান ও আনুগত্যই মুখ্য ছিল, তা বদলে দিয়ে আমাদের এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে যোগ্য নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তরুণদের প্রথম ভোট পড়ুক ধানের শীষে, উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে।”
গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের বলিদান স্মরণ
তারেক রহমান বলেন, “গত বছরের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী পুলিশের গুলিতে আহত এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুধুমাত্র ছাত্রদলেরই প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন।” তিনি এই সাহসী কর্মীদের সাহস, ত্যাগ এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “তোমরা শহিদের সন্তান, তোমাদের দমিয়ে রাখার সাহস কারও নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে সংগঠনে এমন আত্মত্যাগী ও সংগ্রামী তরুণ রয়েছে, সেই সংগঠনকে ধ্বংস করা যায় না। এই শক্তিই শহিদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে আমাদের অনুপ্রেরণা।”
কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব
তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেলে স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।” তিনি মনে করেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, ব্যবহারিক জ্ঞান ও কর্মসংস্থান-নির্ভর শিক্ষাই পারে দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে মজবুত করতে।
বিভেদের রাজনীতি নয়, একাত্মতার পথেই এগোতে হবে
বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আজ বাংলাদেশ একটি পরিণত রাষ্ট্র। এই দেশে আর বিভেদের রাজনীতি চলবে না। আমাদের প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব যারা ঐক্য, প্রগতি এবং আত্মমর্যাদার রাজনীতি করবে।”
তিনি ছাত্রদলসহ সকল তরুণকে অনুপ্রাণিত করে বলেন, “আগামী দিনের নেতৃত্ব তোমাদের হাতে। শহিদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে, তোমাদেরকে হতে হবে নিষ্ঠাবান, দক্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক। আর সেই রাজনীতি হতে হবে জনগণের চাওয়া-পাওয়া ঘিরে, বাস্তব পরিবর্তনের রাজনীতি।”










