সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি আজ—দেশবাসীর দোয়া কামনা দলের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৩৪ Time View

photo collage.png(5)

photo collage.png(5)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সকালেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তাঁর হার্টে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছে, যার মধ্যে একাধিক ব্লক গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে তাকে নিয়ে যেতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ—সেক্রেটারি জেনারেল, নায়েবে আমিরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, সম্প্রতি দলের একটি জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চেকআপে তাঁর হৃদযন্ত্রে পাঁচ-ছয়টি ব্লকেজ শনাক্ত হয়।

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন কেউ হাসপাতালে ভিড় না করেন, যাতে চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমির সাহেবের সুস্থতার জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। তিনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, সেই প্রার্থনাই করছি।”

কূটনৈতিক প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এদিকে, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্যের জন্য নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিপণ্যে ট্যারিফ হ্রাসের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চ ট্যাক্স আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগে হার কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর।”

তিনি এই উদ্যোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার—বিশেষ করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, “ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছে। আমরা আশা করি, আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাঁরা গ্রহণ করবেন, তাঁরা বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেবল রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতাই জানাননি, বরং একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাও প্রকাশ করেছেন।

জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন

একদিকে যখন একজন রাজনৈতিক নেতার ওপেন হার্ট সার্জারির মতো গুরুতর চিকিৎসা চলছে, অন্যদিকে তিনি দেশ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ডা. শফিকুর রহমানের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তাঁর দলের প্রতি যেমন আস্থা জোগায়, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়।

দেশজুড়ে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া করছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতির বাইরেও একজন চিকিৎসক, পিতা, ও দেশের জন্য চিন্তাশীল নেতার মানবিক প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে সর্বত্র।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি আজ—দেশবাসীর দোয়া কামনা দলের

Update Time : ১১:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

photo collage.png(5)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট সার্জারি আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সকালেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, তাঁর হার্টে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছে, যার মধ্যে একাধিক ব্লক গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে তাকে নিয়ে যেতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ—সেক্রেটারি জেনারেল, নায়েবে আমিরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, সম্প্রতি দলের একটি জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চেকআপে তাঁর হৃদযন্ত্রে পাঁচ-ছয়টি ব্লকেজ শনাক্ত হয়।

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন কেউ হাসপাতালে ভিড় না করেন, যাতে চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমির সাহেবের সুস্থতার জন্য আমরা সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। তিনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসেন, সেই প্রার্থনাই করছি।”

কূটনৈতিক প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

এদিকে, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্যের জন্য নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শুক্রবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিপণ্যে ট্যারিফ হ্রাসের সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচ্চ ট্যাক্স আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্যোগে হার কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর।”

তিনি এই উদ্যোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার—বিশেষ করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, “ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করেছে। আমরা আশা করি, আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাঁরা গ্রহণ করবেন, তাঁরা বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদা রক্ষা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেবল রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতাই জানাননি, বরং একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থাও প্রকাশ করেছেন।

জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন

একদিকে যখন একজন রাজনৈতিক নেতার ওপেন হার্ট সার্জারির মতো গুরুতর চিকিৎসা চলছে, অন্যদিকে তিনি দেশ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ডা. শফিকুর রহমানের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তাঁর দলের প্রতি যেমন আস্থা জোগায়, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়।

দেশজুড়ে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া করছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতির বাইরেও একজন চিকিৎসক, পিতা, ও দেশের জন্য চিন্তাশীল নেতার মানবিক প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে সর্বত্র।