দুদকের মামলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলসহ অভিযুক্ত ২৪ জন
- Update Time : ১১:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৩৩০ Time View

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে চাঞ্চল্যকর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ এই মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর তোপখানা রোডে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ২২৯ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়। কিন্তু জমির প্রকৃত বাজারমূল্য ও ক্রয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণে উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই জমিটি বিক্রির কয়েক মাস আগেই মাত্র ২১ কোটি টাকায় জমির বর্তমান মালিক তা ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু ফারইস্টের কাছে ওই জমি তিনি বিক্রি করেন ১০ গুণেরও বেশি দামে—অর্থাৎ ২২৯ কোটিতে!
এমন বিরাট মূল্যে জমি কেনার যৌক্তিকতা না থাকায় এবং এর পেছনে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশঙ্কায় দুদক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জমির বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এই ভূমি ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক জানায়, এটি একটি পরিকল্পিত দুর্নীতি, যেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বিমা কোম্পানির তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা ২৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই মামলাটি দেশের বিমা খাতে চলমান দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। একইসাথে এটি কমিশনের চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন দুর্নীতির দায় প্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে না, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করে কোম্পানির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে এবং তদন্তের পর চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতিও চলছে। এদিকে, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে এর প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই মামলাটি দেশের করপোরেট দুর্নীতির বিরুদ্ধেও একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।










