আবারও এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি অস্বাভাবিক নয়, পিআর পদ্ধতিকে বললেন অলিক: মির্জা ফখরুল
- Update Time : ১০:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / ১১৯ Time View

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও এক–এগারোর মতো কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে তা বিস্ময়কর হবে না। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, “পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জনগণের কাছে একেবারেই দুর্বোধ্য। এটি একটি অলিক কল্পনা মাত্র। জনগণ যখন বুঝেই না, তখন এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার অর্থই হলো গণতন্ত্রকে অন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।” তিনি দাবি করেন, দেশে একটি বিশেষ মহল দীর্ঘদিন ধরেই গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে রাখতে চায়। এমনকি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে সীমিত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আর দেরি করা ঠিক হবে না। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। নতুবা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তির সম্মান হানির আশঙ্কা তৈরি হবে।” ফখরুলের মতে, সময়ক্ষেপণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনের চেতনা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। ঐক্য এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে রূপ নিয়েছে। তরুণরা এখন আদর্শ নয়, বরং চাঁদা তোলার চিঠি নিয়ে ব্যস্ত। এই বাস্তবতা আমাদের হতাশ করে।”
সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকার যদি সত্যিই সংস্কার করতে চাইত, তা হলে তা সরলভাবে করা যেত। কিন্তু তারা অলীক ধারণা নিয়ে আসছে, যেমন পিআর পদ্ধতি। এতে প্রমাণ হয়, একটি মহল এখনো গণতন্ত্রকে ভয় পায় এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করেই ক্ষমতায় থাকতে চায়।”
শেষে তিনি দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমরা সবাই যদি সংঘবদ্ধ না হই, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় অশনি সংকেত অপেক্ষা করছে।”










