রিয়াদের বাসা থেকে আড়াই কোটি টাকার চেক ও এফডিআর উদ্ধার: ফাঁস করলেন সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর
- Update Time : ১২:০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
- / ১৭৭ Time View

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে পরিচিত আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ঢাকার নাখালপাড়ায় রিয়াদের বাসায় অভিযানে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক এবং প্রায় ২০ লাখ টাকার এফডিআরের দলিল পাওয়া গেছে।
জাওয়াদ নির্ঝর তার পোস্টে দাবি করেন, গুলশানে আওয়ামী লীগপন্থী এক ব্যবসায়ীর জমি উদ্ধারের নামে রিয়াদের সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবেই দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক তার ঘরে রাখা ছিল, যার ক্যাশিং তারিখ ছিল আগামী মাসের ২ তারিখ।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ রিয়াদের ঘর থেকে অন্তত ১০টি এফডিআরের নথি উদ্ধার করেছে, যার প্রতিটিতে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা করে রাখা আছে। এ ছাড়া একটি বেসরকারি ব্যাংকে রিয়াদের নামে থাকা অ্যাকাউন্টে গত কয়েক মাসে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
জাওয়াদ নির্ঝর জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান চলে রিয়াদের বাসায়। তবে এ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না এলেও, নির্ভরযোগ্য সূত্র অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন রিয়াদ। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক’ নামে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিতি পাওয়া রিয়াদ মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেন, দখলবাজি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে এসেছে।
তবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও চেক-এফডিআর কোথা থেকে এলো, কারা এর পেছনে রয়েছে, আদৌ এগুলো বৈধ লেনদেন কিনা—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি আরও জটিল হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি একে রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন। রিয়াদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন অনেকে। বর্তমানে রিয়াদ রিমান্ডে আছেন কি না, কিংবা নতুন করে কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না—তা জানতে আরও সময় লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।










