সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ভোটগ্রহণ ৯ সেপ্টেম্বর

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ১৮৮ Time View

96a0b825a2d00eb5dd2e46ee40754003 6888a5a380ebb

96a0b825a2d00eb5dd2e46ee40754003 6888a5a380ebb

দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৪টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তারাও। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালের ১১ মার্চ, যা ছিল দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সে সময় ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর, জিএস পদে ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন।

২০১৯ সালের নির্বাচন নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের রাজনৈতিক চর্চায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিলেও নানা বিতর্ক, সংঘাত ও বিভাজনের কারণে ডাকসু কার্যক্রম খুব বেশি দিন সচল থাকেনি। ফলে ২০২৫ সালের এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার প্রতিটি হল সংসদের নির্বাচনের সঙ্গেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ছাত্রদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার নবযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, ছাত্র রাজনীতির নতুন নেতৃত্ব তৈরির এই প্ল্যাটফর্মটি যেন বস্তুনিষ্ঠ, চিন্তাশীল ও অংশগ্রহণমূলক হয়—সেটিও প্রত্যাশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটবে বলে আশা করছেন অনেকেই। এখন দেখার বিষয়, কে হতে যাচ্ছেন নতুন ভিপি, জিএস ও এজিএস—এবং তারা কীভাবে আগের নেতৃত্বের চেয়ে আলাদা বার্তা দিতে পারবেন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৬ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ভোটগ্রহণ ৯ সেপ্টেম্বর

Update Time : ০৫:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

96a0b825a2d00eb5dd2e46ee40754003 6888a5a380ebb

দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৪টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তারাও। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালের ১১ মার্চ, যা ছিল দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সে সময় ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর, জিএস পদে ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী এবং এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন।

২০১৯ সালের নির্বাচন নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের রাজনৈতিক চর্চায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিলেও নানা বিতর্ক, সংঘাত ও বিভাজনের কারণে ডাকসু কার্যক্রম খুব বেশি দিন সচল থাকেনি। ফলে ২০২৫ সালের এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার প্রতিটি হল সংসদের নির্বাচনের সঙ্গেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ছাত্রদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার নবযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি, ছাত্র রাজনীতির নতুন নেতৃত্ব তৈরির এই প্ল্যাটফর্মটি যেন বস্তুনিষ্ঠ, চিন্তাশীল ও অংশগ্রহণমূলক হয়—সেটিও প্রত্যাশা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটবে বলে আশা করছেন অনেকেই। এখন দেখার বিষয়, কে হতে যাচ্ছেন নতুন ভিপি, জিএস ও এজিএস—এবং তারা কীভাবে আগের নেতৃত্বের চেয়ে আলাদা বার্তা দিতে পারবেন।