বিচার ও সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
- Update Time : ০৯:৪৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৬৩ Time View

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পূর্বে কোনো নির্বাচন হলে তা জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া একসাথে ও ধারাবাহিকভাবে না চললে একটি সুষ্ঠু ও টেকসই গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জামায়াত আমির বলেন, “জুলাই আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে রক্তাক্ত ঘটনা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে যেসব সুপারিশ করেছে, তা বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমরা বলতে চাই—বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন না করে কোনো নির্বাচন আয়োজন জাতির জন্য চরম ক্ষতির কারণ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারগুলোর পাশে আছি। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন—বিচার না দেখে কোনো নির্বাচন নয়। আমরা সেই দাবির সঙ্গে একমত। দেশের রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান চাইলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক সংস্কার।”
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার চাই, তবে সেটা যেন প্রতিহিংসামূলক না হয়। তারা যেটুকু অপরাধ করেছে, সেই অনুযায়ী তাদের ন্যায়সঙ্গত বিচার হোক। কোনো পক্ষের প্রতিও অন্যায় যেন না হয়।”
জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার যদি এই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা মানবতার অংশ।”
এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ন্যাশনাল কনভেনশন পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বক্তারা জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সম্মিলিত বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে, যদি সরকার আন্তরিকভাবে এই দাবি ও প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে। বিচার ও সংস্কার ছাড়া আগ্রাসী নির্বাচন আয়োজন জাতিকে শুধুই অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে—এটি এখন অনেকেরই অভিন্ন মত।










