‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা কীভাবে পালিয়ে গেল—এ প্রশ্নও বিচারের দাবিতে উঠে আসে’
- Update Time : ০২:৪২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৮০ Time View

জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও নির্দেশদাতারা কীভাবে দেশে অবস্থান করেও নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো, তা জাতির কাছে এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, হত্যার পরবর্তী সময়েও কীভাবে এসব অপরাধী দেশত্যাগ করলো—তা বিচারের আওতায় আনাও জরুরি।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত “জুলাই গণহত্যার বিচার: আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এটি ছিল ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’র অংশ, যা আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দেশে এক সময় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল বলেই তারা পালাতে পেরেছে। যারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, তারাও অনেক ক্ষেত্রেই এখনো বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোয় রয়ে গেছে। যদি তারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হতো, তাহলে খুনিরা এত সহজে দেশ ছাড়তে পারতো না। কাজেই শুধু সরাসরি হত্যাকারীদের নয়, তাদের সমর্থকদের ও গোপন রক্ষাকর্তাদেরও চিহ্নিত করে বিচার প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে অভিযুক্ত অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তারা দেশের আইনের আওতায় নেই, ফলে ট্রাইব্যুনাল তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করলেও প্রকৃত অর্থে তারা আইন-আদালতের সামনে দাঁড়াবে না। এটি ন্যায়ের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, “বিচারের নামে যারা খণ্ডিত সত্য প্রতিষ্ঠা করে তাদের জন্য এই বিচার প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। কিছু অভিযুক্তের শাস্তি হলেও বেশিরভাগ অপরাধী থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তাই বিচার শুধু প্রতীকী না হয়ে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ হতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশে এখনো ‘গ্রেপ্তার-বাণিজ্য’ ও ‘মামলা-বাণিজ্য’ থেকে মুক্তি মেলেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানো ছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্তি সম্ভব নয় বলেও মত দেন তিনি। তার মতে, রাজনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩ আগস্ট থেকে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল “জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার” বা “Trial of July Carnage” শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন। তথ্যচিত্রে ১৯৭৫ সালের ভয়াবহ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সেনা বিদ্রোহ, এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এই প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।










