চোরের উপর বাটপারি! হাসিনা কথা কয় কাদের টাকা লয়,দলীয় নেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে টেলিগ্রামে
- Update Time : ০৩:১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / ২৫৭ Time View

গত ১৬ বছরে, স্বৈরশাসক হাসিনার শাসনামলে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মনোনয়ন নিয়ে বাণিজ্যই যেন হয়ে উঠেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রধান কার্যক্রম। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়—ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা—প্রত্যেক পর্যায়ে দলীয় সমর্থনের আড়ালে মনোনয়ন বিক্রি করে কাদের গড়েছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।
তবে সময় বদলেছে। হাসিনা আজ পালিয়ে, আর ওবায়দুল কাদের—যিনি ‘কাউয়া কাদের’ নামেই বেশি পরিচিত—গা ঢাকা দিয়েছেন। তবুও থেমে নেই তার দুর্নীতির ধারাবাহিকতা। সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তিনি এখন ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আদায় করছেন নিষিদ্ধ দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে। পরিস্থিতি যেন চোরের ওপর আরও প্রতারণার ছাপ!
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা যখন ভারত পালিয়ে যান, তখন থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম। এই প্ল্যাটফর্মে দলটির একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে স্বৈরাচার ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ওবায়দুল কাদেরের তত্ত্বাবধানে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, প্রতিদিন রাত ৯টার পর টেলিগ্রামের এসব গোপন গ্রুপে শুরু হয় ভার্চুয়াল বৈঠক, যেখানে আলোচনার মূল বিষয় থাকে—নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে কীভাবে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা। প্রত্যেকটি গ্রুপে সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজারের মধ্যে, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী, এমনকি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও।
এই বৈঠকগুলো সরাসরি নেতৃত্ব দেন স্বয়ং ফ্যাসিস্ট হাসিনা, আর পেছন থেকে পুরো বিষয়টির সমন্বয় করেন ওবায়দুল কাদের, যিনি ‘কাউয়া কাদের’ নামেও পরিচিত। সমন্বয় বলতে শুধু পরিকল্পনা নয়—কার কখন, কতক্ষণ, কাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারবে, তা নির্ধারিত হয় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে। ভারতের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন সাবেক মন্ত্রী।
প্রবচন আছে, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’—এ যেন ঠিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা। আজ আর হাতে নেই রাষ্ট্রক্ষমতা, ফলে আগের মতো মনোনয়ন কিংবা চাঁদা বাণিজ্য চালানোর সুযোগও নেই। কিন্তু তাতেই থেমে যাননি ‘কাউয়া কাদের’। এবার তিনি বেছে নিয়েছেন আরেকটি পথ—নিজ দলের নেতাদের ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। কোটি কোটি টাকার এ ধরনের প্রতারণা যেন নির্লজ্জতার সব সীমা অতিক্রম করেছে। দেশের ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ, বেহায়া এবং চরিত্রহীন প্রতারক আর একজন আছে কি না, তা ভাবলে বিস্ময় জাগে!
বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, টেলিগ্রামে প্রতিদিন রাতের বেলায় অনুষ্ঠিত এসব গোপন মিটিংয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের মিলে পরিকল্পনা করেন কে কখন কোথায় কীভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে—যেন দেশজুড়ে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভার্চুয়াল বৈঠক এখন যেন পরিণত হয়েছে হাসিনার দেশে ফেরার ষড়যন্ত্রের মূল ঘাঁটিতে। প্রতিটি বৈঠকে সাজানো হয় নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের রূপরেখা।
তবে এসবের মধ্যেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কাউয়া কাদেরের অর্থ বাণিজ্য। তার এই অমানবিক ও লোভনীয় অর্থ লেনদেন—যেখানে দলেরই নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে—তা এখন নিন্দা ও ঘৃণার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ ইনকিলাব










