সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমপক্ষে ৬ মাস আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা জরুরি: ডা. জাহেদ উর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১২:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ২০১ Time View

500 321 inqilab white 20250729121925

500 321 inqilab white 20250729121925

নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে—গ্রাম থেকে শহর, চায়ের আড্ডা থেকে খেলাধুলার মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন: কে হবেন আগামী সংসদ সদস্য, কার হাতে উঠবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভার? এমন এক সময়, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান তার ইউটিউব চ্যানেলে এক বিশদ আলোচয় জানান, নির্বাচন নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকারকে এখনই তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

ডা. জাহেদের মতে, কমপক্ষে ছয় মাস আগে নির্বাচনের নির্ধারিত দিন ঘোষণা করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতির যথাযথ সময় পায়। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী দিনক্ষণ ছয় মাস আগেই জানার অধিকার রয়েছে।”

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তিন দিনের ধারাবাহিক আলোচনায় বসেন। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা জামাল হায়দার ও ববি হাজ্জাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আলোচনার পর তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা নিকট ভবিষ্যতে নির্বাচনের তারিখ বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. জাহেদ প্রশ্ন তোলেন—যদি প্রধান উপদেষ্টা সত্যিই এমন ঘোষণা দেওয়ার কথা বলে থাকেন, তবে তার প্রেস টিম কেন তা নিশ্চিত করছে না? আবার, যদি আলোচনাকারী দুই নেতা মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে প্রেস টিমের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিবাদ কেন আসছে না?

তিনি বলেন, “এই দুটি ক্ষেত্রেই প্রেস টিমের নীরবতা জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে।” এর আগেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংকে তথ্য গোপন বা বিকৃত করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. জাহেদ আলোচনায় তুলে ধরেন, এক সময় ঐক্যমত কমিশনের সদস্যরা—আলী রীয়াজ, বদিউল আলম মজুমদার ও মনির হায়দার—প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল রাজনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু কিছুদিন পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্যকে অস্বীকার করে। এই দ্বৈত বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন ডা. জাহেদ: “তাহলে কি সেই তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মিথ্যাচার করেছেন? না কি সত্য লুকাতে প্রেস টিম সচেষ্ট ছিল?”

তার মতে, “যারা আলী রীয়াজ, বদিউল আলম ও মনির হায়দারকে চেনেন, তারা জানেন—এরা মিথ্যা বলতে পারেন না। তাহলে এমন শক্তিশালী কোনও গোষ্ঠী রয়েছে, যারা প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকেই সত্যকে আড়াল করতে চায়।”

ডা. জাহেদ এরপর মোস্তফা জামাল হায়দার ববি হাজ্জাজকে সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিয়ে আমি শঙ্কিত, কারণ তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে। ভবিষ্যতে তারা উল্টোপাল্টা কিছু করে বসবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

আলোচনার শেষদিকে তিনি মন্তব্য করেন, গণতন্ত্র নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সচেতন সকল শক্তিকে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধান উপদেষ্টার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তিনি খুব দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তার মতে, “নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এখন কেবল প্রয়োজন নয়—এটি গণতন্ত্র রক্ষায় এক ধরনের ফরজ দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।”

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কমপক্ষে ৬ মাস আগে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা জরুরি: ডা. জাহেদ উর রহমান

Update Time : ১২:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

500 321 inqilab white 20250729121925

নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে—গ্রাম থেকে শহর, চায়ের আড্ডা থেকে খেলাধুলার মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন: কে হবেন আগামী সংসদ সদস্য, কার হাতে উঠবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভার? এমন এক সময়, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান তার ইউটিউব চ্যানেলে এক বিশদ আলোচয় জানান, নির্বাচন নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকারকে এখনই তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

ডা. জাহেদের মতে, কমপক্ষে ছয় মাস আগে নির্বাচনের নির্ধারিত দিন ঘোষণা করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতির যথাযথ সময় পায়। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী দিনক্ষণ ছয় মাস আগেই জানার অধিকার রয়েছে।”

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তিন দিনের ধারাবাহিক আলোচনায় বসেন। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা জামাল হায়দার ও ববি হাজ্জাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আলোচনার পর তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা নিকট ভবিষ্যতে নির্বাচনের তারিখ বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডা. জাহেদ প্রশ্ন তোলেন—যদি প্রধান উপদেষ্টা সত্যিই এমন ঘোষণা দেওয়ার কথা বলে থাকেন, তবে তার প্রেস টিম কেন তা নিশ্চিত করছে না? আবার, যদি আলোচনাকারী দুই নেতা মিথ্যা বলে থাকেন, তাহলে প্রেস টিমের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিবাদ কেন আসছে না?

তিনি বলেন, “এই দুটি ক্ষেত্রেই প্রেস টিমের নীরবতা জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে।” এর আগেও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংকে তথ্য গোপন বা বিকৃত করতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. জাহেদ আলোচনায় তুলে ধরেন, এক সময় ঐক্যমত কমিশনের সদস্যরা—আলী রীয়াজ, বদিউল আলম মজুমদার ও মনির হায়দার—প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল রাজনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু কিছুদিন পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্যকে অস্বীকার করে। এই দ্বৈত বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন ডা. জাহেদ: “তাহলে কি সেই তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মিথ্যাচার করেছেন? না কি সত্য লুকাতে প্রেস টিম সচেষ্ট ছিল?”

তার মতে, “যারা আলী রীয়াজ, বদিউল আলম ও মনির হায়দারকে চেনেন, তারা জানেন—এরা মিথ্যা বলতে পারেন না। তাহলে এমন শক্তিশালী কোনও গোষ্ঠী রয়েছে, যারা প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকেই সত্যকে আড়াল করতে চায়।”

ডা. জাহেদ এরপর মোস্তফা জামাল হায়দার ববি হাজ্জাজকে সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিয়ে আমি শঙ্কিত, কারণ তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে। ভবিষ্যতে তারা উল্টোপাল্টা কিছু করে বসবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই।”

আলোচনার শেষদিকে তিনি মন্তব্য করেন, গণতন্ত্র নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সচেতন সকল শক্তিকে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধান উপদেষ্টার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তিনি খুব দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তার মতে, “নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এখন কেবল প্রয়োজন নয়—এটি গণতন্ত্র রক্ষায় এক ধরনের ফরজ দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।”