প্রস্তুত ‘হাসিনার ফাঁসির মঞ্চ’: ‘জুলাই ঐক্য’র প্রতীকী ট্রাইব্যুনাল ও মানবাধিকার প্রদর্শনী
- Update Time : ০২:৪১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
- / ১৭২ Time View

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক নজিরবিহীন প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে ‘জুলাই ঐক্য’ এবং ‘জাগ্রত জুলাই’ নামে একটি সংগঠন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অভিযোগকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, গণহত্যা, দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তারা আয়োজন করেছে একটি ব্যতিক্রমী ছবি ও তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীটির নাম দেওয়া হয়েছে — ‘হাসিনার ফাঁসির মঞ্চ’।
উদ্বোধন ও সময়সূচি
এই প্রদর্শনী ২৫ জুলাই, শুক্রবার বিকাল ৫:৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উদ্বোধন করা হবে। চলবে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ ৫ আগস্ট। আয়োজনের শেষ দিনে, এক প্রতীকী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে প্রতীকী ফাঁসির রায় দেওয়া হবে — এমনটাই জানানো হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
প্রদর্শনীটিকে তাঁরা বলছেন ‘গণহত্যার সাক্ষ্যচিত্র’ — যেখানে ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নানা প্রামাণ্য ছবি, তথ্যচিত্র, নিহত-বন্দিদের তালিকা ও গুমের ঘটনা তুলে ধরা হবে।
প্রদর্শনীতে যেসব বিষয় উঠে আসবে:
- গুম–খুনের আলামত ও তথ্য – নিখোঁজ রাজনীতিক ও ছাত্রনেতাদের তালিকা, পরিবারের সাক্ষাৎকার, সময়ের সংবাদ শিরোনাম।
- লগি–বৈঠা হত্যাকাণ্ড (২০০৬) – ঢাকার পল্টনে সংঘটিত সেই নৃশংস রাজনৈতিক সহিংসতার ছবি ও ভিডিও।
- শাপলা চত্বর গণহত্যা (২০১৩) – হেফাজতের অবস্থান তুলে দিতে মধ্যরাতে সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নিহতদের সংখ্যাগত চিত্র।
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নামে ‘প্রহসন’ – বিরোধীদের দমন নীতির অভিযোগ এবং দলীয় বিচারের দৃষ্টান্ত।
- ২০২৪ সালের ‘গণহত্যা ও ভোট ডাকাতি’ – বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন ও নির্বাচনকালীন সহিংসতার দলিল।
- মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ ও বাকস্বাধীনতার হরণ – সাংবাদিক নির্যাতন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবাদমাধ্যমের দমন।
প্রতীকী ট্রাইব্যুনাল ও ‘ফাঁসির রায়’
৫ আগস্ট, প্রদর্শনীর শেষ দিনে আয়োজন করা হবে একটি প্রতীকী ট্রাইব্যুনাল। যেখানে উপস্থিত থাকবেন আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বিশ্লেষক ও রাজনীতিকদের একটি প্যানেল। তাঁরা দীর্ঘ শুনানি শেষে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে “গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীকী বিচার” পরিচালনা করবেন এবং প্রতীকী ফাঁসির আদেশ দেবেন।
এই পুরো কার্যক্রমে কোনো বাস্তবিক সহিংসতার উপাদান না থাকলেও, এটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি বিরোধী জনমতকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটি নতুন কৌশল ব্যবহারের পথে যাচ্ছে বিরোধীপন্থীরা। ‘জুলাই ঐক্য’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন:
“জনগণের মধ্যে সরকারের অপরাধের চিত্র তুলে ধরা, ইতিহাসের সাক্ষ্য রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
তবে সরকার পক্ষ থেকে এই ধরনের কার্যক্রমকে উস্কানিমূলক ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলেই গণ্য করা হতে পারে — এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অংশগ্রহণকারীদের তালিকা
এই আয়োজনে অংশ নেবেন:
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠন
- মানবাধিকার সংগঠন ও প্রবাসী অ্যাক্টিভিস্ট
- সাংবাদিক ও লেখকরা
- সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাট্যকর্মীরা
- বিচারপতিদের সংগঠন ও সাবেক কর্মকর্তা
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন
এই আয়োজন নিয়ে ইতিমধ্যে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডন, নিউইয়র্ক, কাতার ও টরন্টোতে বসবাসরত প্রবাসীরা সামাজিক মাধ্যমে এই ‘প্রতীকী বিচারের’ পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন না থাকায় এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী প্রতিবাদই এখন গণতন্ত্রের একমাত্র প্রতিধ্বনি।
‘হাসিনার ফাঁসির মঞ্চ’ শিরোনামে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে। এটি একদিকে যেমন প্রতীকী প্রতিবাদের সাহসী নজির, অন্যদিকে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও তীব্রতর করতে পারে।
এই আয়োজনে ক্ষমতার সমালোচনার পাশাপাশি উঠে আসছে প্রশ্ন — বাংলাদেশে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার কোথায় দাঁড়িয়ে? যদি এর উত্তর না মেলে, তবে হয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাসেই থাকবে আজকের এই ‘প্রদর্শনী’র গভীর তাৎপর্য।
সতর্কীকরণ: প্রতিবেদনটি একটি চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি বিশ্লেষণ। এতে কারও প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং সাংবাদিকভাবে তথ্য উপস্থাপনই উদ্দেশ্য।
সূত্র:
- প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জুলাই ঐক্য
- গণমাধ্যম অনুসন্ধান: ২৫ জুলাই, ২০২৫
- অতীত রিপোর্ট: মানবাধিকার সংগঠন, ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন, সংবাদ সংস্থা তথ্যভান্ডার










