সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতীতের বস্তাপচা ধারায় নির্বাচন নয়, দরকার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট: শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • / ১৬৮ Time View

290af116f3e582269947ab7e7eacff14 6880f8a79b8ea

290af116f3e582269947ab7e7eacff14 6880f8a79b8ea

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল আর কখনোই অতীতের মতো প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “দেশকে যদি সত্যিকার অর্থে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র পথ। আমরা চাই না সেই পুরনো, জনগণের আস্থা হারানো বস্তাপচা ধারায় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আগামী বছরের শুরুতেই আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করি।”

বুধবার (২৩ জুলাই) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াত আয়োজিত জনশক্তি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় জনগণের বিপুল উপস্থিতির মধ্যে তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক ও নৈতিক শুদ্ধতার বার্তা।

তিনি বলেন, “জামায়াত কখনোই অপরিপক্ব বা সাজানো নির্বাচন চায় না। আমরা চাই একটি সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ভোট যেখানে জনগণ মুক্তভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে যে সরকার গঠিত হয়, তা কখনোই জনগণের সরকার হতে পারে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “দেশে যে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সঙ্কট বিরাজ করছে, তার মূল শিকড় নিহিত চারিত্রিক ও নৈতিক সংকটে। দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো দিয়ে নয়, বরং নেতৃত্বের সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হয়। আমাদের সমাজে দুর্নীতির বহুবিধ রূপ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি, যেখানে মেধা ও চিন্তাশক্তি ব্যবহৃত হয় অন্যায় ও স্বার্থান্বেষী উদ্দেশ্যে। এই দুর্নীতি দেশকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে দিচ্ছে না।”

তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চেয়েছে একমাত্র জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা চাই, মানুষ যেন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা পায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিতে জর্জরিত।”

জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই, যা ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। ইসলামী মূল্যবোধকে ভিত্তি করে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। সেই রাষ্ট্রে থাকবে না শোষণ, বৈষম্য বা ক্ষমতার অপব্যবহার। আমাদের এই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণকে অবশ্যই জামায়াতের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।”

এই সুধী সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও সিলেট জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নেতারা আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ও গণসংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জামায়াত অতীতের মত সাজানো নির্বাচনের ফাঁদে পা দেবে না। তারা চান সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ের সমাজ বিনির্মাণ, যেখানে জনগণের রায়ই হবে একমাত্র নিয়ামক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অতীতের বস্তাপচা ধারায় নির্বাচন নয়, দরকার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ভোট: শফিকুর রহমান

Update Time : ১০:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

290af116f3e582269947ab7e7eacff14 6880f8a79b8ea

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল আর কখনোই অতীতের মতো প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “দেশকে যদি সত্যিকার অর্থে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র পথ। আমরা চাই না সেই পুরনো, জনগণের আস্থা হারানো বস্তাপচা ধারায় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আগামী বছরের শুরুতেই আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করি।”

বুধবার (২৩ জুলাই) সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াত আয়োজিত জনশক্তি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় জনগণের বিপুল উপস্থিতির মধ্যে তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক ও নৈতিক শুদ্ধতার বার্তা।

তিনি বলেন, “জামায়াত কখনোই অপরিপক্ব বা সাজানো নির্বাচন চায় না। আমরা চাই একটি সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ভোট যেখানে জনগণ মুক্তভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে যে সরকার গঠিত হয়, তা কখনোই জনগণের সরকার হতে পারে না।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “দেশে যে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সঙ্কট বিরাজ করছে, তার মূল শিকড় নিহিত চারিত্রিক ও নৈতিক সংকটে। দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো দিয়ে নয়, বরং নেতৃত্বের সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হয়। আমাদের সমাজে দুর্নীতির বহুবিধ রূপ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি, যেখানে মেধা ও চিন্তাশক্তি ব্যবহৃত হয় অন্যায় ও স্বার্থান্বেষী উদ্দেশ্যে। এই দুর্নীতি দেশকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে দিচ্ছে না।”

তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চেয়েছে একমাত্র জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য। আমরা চাই, মানুষ যেন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা পায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিতে জর্জরিত।”

জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই, যা ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। ইসলামী মূল্যবোধকে ভিত্তি করে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। সেই রাষ্ট্রে থাকবে না শোষণ, বৈষম্য বা ক্ষমতার অপব্যবহার। আমাদের এই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণকে অবশ্যই জামায়াতের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।”

এই সুধী সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও সিলেট জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নেতারা আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ও গণসংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জামায়াত অতীতের মত সাজানো নির্বাচনের ফাঁদে পা দেবে না। তারা চান সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং একটি ন্যায়ের সমাজ বিনির্মাণ, যেখানে জনগণের রায়ই হবে একমাত্র নিয়ামক।