সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইলস্টোনে নিহতের সংখ্যা বিশ্বাস করি না,এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটেছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / ২১১ Time View

ceb27d631f2e5f75c340f1cb61ebc0d0 687f9197cc634

ceb27d631f2e5f75c340f1cb61ebc0d0 687f9197cc634

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনার পর যে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে—তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি একটি বার্তা নিয়ে এসেছি, বলা হচ্ছে ২৭ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি না। আমার ধারণা, এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।” নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, “আমরা দোয়া করি যেন তারা সবাই জান্নাতবাসী হন। আহত ও নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাবে। প্রয়োজন হলে অর্থ, রক্ত—যা যা দরকার, আমাদের কর্মীরা দিয়ে দিবে।”

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলটি আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণকারী জামায়াত কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান কলমের স্মরণে। দোয়া মাহফিলে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের জন্য বিশেষ মুনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আল-কোরআন মানব জাতির মুক্তির পথনির্দেশক। কোরআনের আলোকে আমরা বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করবো। দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করবো। যারা দুর্নীতি করে, তাদের আমরা ছেড়ে দেব না। দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবো। এই দেশে আর কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না।” তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট ও জালিম শক্তি যতই বড় হোক না কেন, জামায়াত কোনো জালিমকে ভয় করে না। আমরা গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা প্রস্তুত আছেন তো? কারণ সামনে আরও অনেক লড়াই আসছে। এই লড়াই অনিয়ম, দুঃশাসন, দুর্নীতি, জুলুমের বিরুদ্ধে। যতদিন মানুষের মুক্তি না মিলবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে।”

দোয়া মাহফিলে যোগদানের আগে ডা. শফিকুর রহমান ঈশ্বরদীর চর মিরকামারী গ্রামের কবরস্থানে প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান কলমের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারতের সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর তিনি নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান কলমের পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই পরিবারটি যেন আগের চেয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সেজন্য আমরা দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্ব আমরা নেব।”

উক্ত দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম, নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ, এসএম সোহেলসহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।

এই সমাবেশ ও বক্তব্য জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিরও এক সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে যে শক্তিশালী প্রতিবাদ এবং সংগঠনগত পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত জামায়াত নেতারা দিয়ে চলেছেন, তা আগামীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাইলস্টোনে নিহতের সংখ্যা বিশ্বাস করি না,এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটেছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ১০:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ceb27d631f2e5f75c340f1cb61ebc0d0 687f9197cc634

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঘটনার পর যে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে—তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি একটি বার্তা নিয়ে এসেছি, বলা হচ্ছে ২৭ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি না। আমার ধারণা, এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।” নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, “আমরা দোয়া করি যেন তারা সবাই জান্নাতবাসী হন। আহত ও নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাবে। প্রয়োজন হলে অর্থ, রক্ত—যা যা দরকার, আমাদের কর্মীরা দিয়ে দিবে।”

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলটি আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণকারী জামায়াত কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান কলমের স্মরণে। দোয়া মাহফিলে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের জন্য বিশেষ মুনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আল-কোরআন মানব জাতির মুক্তির পথনির্দেশক। কোরআনের আলোকে আমরা বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করবো। দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করবো। যারা দুর্নীতি করে, তাদের আমরা ছেড়ে দেব না। দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবো। এই দেশে আর কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না।” তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট ও জালিম শক্তি যতই বড় হোক না কেন, জামায়াত কোনো জালিমকে ভয় করে না। আমরা গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা প্রস্তুত আছেন তো? কারণ সামনে আরও অনেক লড়াই আসছে। এই লড়াই অনিয়ম, দুঃশাসন, দুর্নীতি, জুলুমের বিরুদ্ধে। যতদিন মানুষের মুক্তি না মিলবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে।”

দোয়া মাহফিলে যোগদানের আগে ডা. শফিকুর রহমান ঈশ্বরদীর চর মিরকামারী গ্রামের কবরস্থানে প্রয়াত মোস্তাফিজুর রহমান কলমের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারতের সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর তিনি নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান কলমের পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই পরিবারটি যেন আগের চেয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, সেজন্য আমরা দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। সন্তানদের শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্ব আমরা নেব।”

উক্ত দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম, নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ, এসএম সোহেলসহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।

এই সমাবেশ ও বক্তব্য জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্দোলনের গতি-প্রকৃতিরও এক সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে যে শক্তিশালী প্রতিবাদ এবং সংগঠনগত পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত জামায়াত নেতারা দিয়ে চলেছেন, তা আগামীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।