শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করা যাবে না, বিচার হবেই: মির্জা ফখরুলের দৃপ্ত ঘোষণা
- Update Time : ০২:৩২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / ১৩৮ Time View

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ইতিহাস একদিন বিচার করবেই এবং এমন নির্মম, নিষ্ঠুর শাসকের কোনো ক্ষমা নেই। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনা মানবজাতির কলঙ্ক, মায়ের কলঙ্ক। তার বিচার হবেই, কোনো ক্ষমা নেই।”
রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত একটি স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন মির্জা ফখরুল। ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা—সবুজ পল্লবে স্মৃতি অম্লান’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে নিম গাছ রোপণ করা হয়।
এক মায়ের আহাজারির মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের প্রতিধ্বনি
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এক শহীদ মায়ের বুকফাটা আহাজারির বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন, পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে। কিন্তু সেই সন্তানের বুক ঝাঁঝরা করে গুলি চালানো হলো। পড়ে যাওয়ার পর তাকে একটি ভ্যানে তোলা হয়—সে বেঁচে আছে না মরে গেছে, তা না জেনেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় আরও কয়েকজন লাশসহ। এমন নির্মমতা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “যে রাষ্ট্রের জন্য ১৯৭১ সালে আমরা রক্ত দিয়েছিলাম, সেই রাষ্ট্রের পুলিশ, সেই রাষ্ট্রের প্রশাসন আজ জনগণের পেটে গুলি চালাচ্ছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই বাহিনী এখন সরকারদলীয় আদেশে জনগণের রক্ত ঝরাচ্ছে। এটা বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা। আর এই সমস্ত অপরাধের দায় থেকে শেখ হাসিনা রেহাই পেতে পারেন না। একদিন এই সকল অপরাধের বিচার হবেই।”

শহীদ পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা
শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ না থেকে, বিএনপি মহাসচিব এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “শহীদ ও আহতদের পরিবার যাতে মানবেতর জীবন না কাটায়, সে জন্য আমরা দলীয়ভাবে একটি পুনর্বাসন ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছি। আমি আজই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অনুরোধ করব, যেন একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয় শহীদ পরিবারগুলোর সহায়তায়।”
তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ উদ্যোগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষকেও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও প্রেক্ষাপট
অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ ও প্রতিবাদের সুর।
‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ এবং বিএনপির অবস্থান
বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার মিলিত গণআন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বহু আন্দোলনকারী নিহত ও আহত হন। এ ঘটনাকে তারা একটি ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে চলেছে। দলটি এই শহীদদের স্মরণে একাধিক কর্মসূচি পালন করছে এবং দাবি জানাচ্ছে বিচার, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বিন্যাসের।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—বাংলাদেশ আজ ‘গণতন্ত্রহীন এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী শাসনের’ কবলে পড়েছে, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মনোবলে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।











