সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাত দফা দাবিতে জামায়াতের বিশাল সমাবেশ, ঢল নামছে নেতাকর্মীদের
- Update Time : ১০:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৯০ Time View

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ (শনিবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষণা অনুযায়ী সাত দফা দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ। দুপুর ২টায় এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও কার্যত গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের আগমন শুরু হয়। ভোর হতেই রাজধানীজুড়ে যেন নেতাকর্মীদের ঢল নামে।
শনিবার সকাল থেকে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মিছিলের স্লোগানে প্রকম্পিত রাজধানীর মহাখালী, ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, কাকরাইল, মৎস্য ভবনসহ আশপাশের সব রাস্তাঘাট। সব দিক থেকেই মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা ছুটে আসছেন সমাবেশস্থলে। সবার মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে দলীয় স্লোগান, হাতে রয়েছে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’, কারো গায়ে আবার দেখা গেছে বিশেষভাবে বানানো গেঞ্জি যেখানে লেখা রয়েছে— ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট, জামায়াতের পক্ষে হোক’ ও ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’।
ঢাকার বাইরে থেকে আগত অনেক নেতাকর্মী জানান, ভীড় ও যানজটের কথা মাথায় রেখে তারা আগেভাগেই এসে পৌঁছেছেন। কেউ কেউ শুক্রবার রাতেই উদ্যানের আশপাশে অবস্থান নেন। বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জামায়াত কর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে উদ্যান।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাবেশের লক্ষ্যে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। মাঠ ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা, প্রবেশপথে তল্লাশি ও জরুরি সহায়তা দিতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবককে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সমাবেশস্থলে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম, পানির সরবরাহ ও মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এরইমধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে। দলটির দাবি, তারা সম্পূর্ণ আইনগত কাঠামোর মধ্য থেকেই এই সমাবেশের আয়োজন করছে এবং কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে চায় না।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশে দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। বক্তৃতায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতপ্রকাশের অধিকার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকার এই সমাবেশ জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সার্বিক বিবেচনায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আজ যেন পরিণত হয়েছে জামায়াতের রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর এবং সংগঠনের সামর্থ্য প্রদর্শনের মঞ্চে।










