সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকায় সমাবেশে যাওয়ার পথে নিহত জামায়াত নেতা, আহত ২
- Update Time : ১০:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৩৮ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকার পথে রওনা হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দলের একজন প্রবীণ নেতা। নিহত মাওলানা আবু সাঈদ (৫২) ছিলেন খুলনার দাকোপ উপজেলা জামায়াতের আমির এবং চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী মৌলভী। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন জামায়াত কর্মী আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা চৌরাস্তা মোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই সময় নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি গাড়ি রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা হয়। মাওলানা আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা তখন গাড়ি থেকে নেমে চা পান করছিলেন এবং ব্যানার সোজা করছিলেন। হঠাৎ পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাওলানা আবু সাঈদের মৃত্যু হয় এবং আহত হন জামায়াত কর্মী মো. আনিসুর রহমান ও মো. ইকবাল হোসেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাওলানা আবু সাঈদের মৃত্যুতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আবু সাঈদ ছিলেন চার কন্যাসন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে জুই খাতুন বিবাহিত, দ্বিতীয় মেয়ে তাহেরা খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তৃতীয় মেয়ে হুমায়রা খাতুন সদ্য দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং ছোট মেয়ে যুথী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মাওলানা আবু সাঈদের মরদেহ তার নিজ এলাকা দাকোপে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই পরিবারের সদস্য এবং জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত তিনটার দিকে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে মারা যান এবং দুজন গুরুতর আহত হন। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সমাবেশে অংশ নিতে খুলনা বিভাগ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। খুলনা মহানগর জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, তারা ১১০টি বাসের ব্যবস্থা করেছে, যাতে করে অন্তত সাত হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় পৌঁছান। এ ছাড়া ট্রেনের একটি বগিও রিজার্ভ করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও অনেকেই এই সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
এই দুর্ঘটনা সমাবেশের প্রস্তুতি ও উন্মাদনার মধ্যে একটি বেদনাদায়ক ছায়া ফেলেছে। তবে নেতাকর্মীরা নিহত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জানান, তার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, বরং এটাই তাদের অধিক সক্রিয় হওয়ার প্রেরণা হয়ে থাকবে।










