জামায়াতের সমাবেশে এনসিপি নেতা সারজিসের জোরালো বক্তব্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ‘সুশীল ভূমিকা’ নয়, চাই ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী’ দৃঢ়তা
- Update Time : ০৬:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৯৫ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় মহাসমাবেশে এক বিতর্কিত ও সাহসী বক্তব্য দিয়েছেন নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সুশীল সরকারের নরম-নিষ্ঠ ভূমিকা দেখতে চাই না। আমরা চাই, তারা অভ্যুত্থান পরবর্তী দৃঢ় সরকারের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
সারজিসের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—আগামীর বাংলাদেশে আমাদের বিচার লাগবে, আর সেই বিচারের আওতায় খুনি হাসিনার বিচার হবেই। তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটাই জনতার দাবি।”
তিনি আরও দাবি করেন, “গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও মুজিববাদীরা ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। তারা শুধু কোনো একটি দলের অনুসারী নয়, তারা একটি আদর্শিক কাঠামোর ধারক। মুজিববাদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনও। শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”
সারজিস আলম তার বক্তব্যে ‘অভ্যুত্থান’-এর পক্ষে মত দিয়ে বলেন, “আমরা যারা স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মুজিববাদী স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে ও সংস্কৃতিকভাবে মুজিববাদের কোমর ভেঙে দিতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “এটা কেবল একটা রাজনৈতিক ট্রানজিশন নয়, এটা এক আদর্শের বিরুদ্ধে রণাঙ্গন। এখনই সময়, সকল প্রতিরোধকারী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট দানবের বিরুদ্ধে দাঁড়াক।”
সারজিসের এ বক্তব্য শুধু উপস্থিত জনতাকে নয়, সারাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, জামায়াতের মঞ্চ থেকে এনসিপি নেতার এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে। কেউ কেউ বলছেন, এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের প্রকট রূপ এবং বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নতুন ধরনের প্রতিরোধ চেতনার প্রকাশ।
এদিকে, সারজিসের বক্তব্য নিয়ে সরকারপন্থী মহল থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র ও সংঘাতমুখর করে তুলতে পারে।










