আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াই হবে: সোহরাওয়ার্দীতে জাতীয় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা
- Update Time : ০৬:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
- / ১৫৭ Time View

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে এক কঠিন সময় অতিক্রম করে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, আর সে পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একটি লড়াই আমরা ইতোমধ্যে করেছি। এখন সময় এসেছে আরেকটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের—এইবার লক্ষ্য দুর্নীতির মূলোৎপাটন।”
শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় মহাসমাবেশে তিনি এই বক্তব্য দেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক কাঠামোকে নয়, নৈতিকতা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকেও পচিয়ে দিয়েছে। এই দানবকে রুখতেই হবে।”
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমাবেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের স্মরণ
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গভীর কষ্টের সাথে জানান, “আজকের সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে আমাদের তিনজন ভাই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আমরা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তিনি তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং পরিবারকে এই কঠিন শোক সহ্য করার শক্তি দেন।”
শহীদদের অবদান এবং ফ্যাসিবাদের নিন্দা
তিনি বলেন, “আবু সাঈদ ও তার সহযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যে আন্দোলন করেছে, তার ফলেই আজ দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহস পেয়েছে। যদি তারা সে সময় সাহস না দেখাতেন, তাহলে আজ যারা নানান দাবিদাওয়া করছেন, তাদের সেই অধিকার কোথায় থাকত?”
ডা. শফিকুর রহমান এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের শহীদদের অবমূল্যায়ন করা যাবে না, অহংকার করা যাবে না, কাউকে ছোট করে দেখা যাবে না। যে দল বা ব্যক্তি অন্যদের সম্মান না করে, তারাই আসলে ফ্যাসিবাদের বীজ বুনছে।”
রাজনৈতিক
তিনি রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সব বিরোধী শক্তিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা কেবল জামায়াতের কথা বলছি না, আমরা বলছি জনগণের অধিকারের কথা। আমরা বলছি ন্যায়বিচারের কথা। যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে রয়েছেন, তারা আমাদের এই আন্দোলনে একসাথে হোন।”
বক্তৃতাকালে শারীরিক অসুস্থতা
বক্তৃতার এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মঞ্চে ঢলে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে নেতাকর্মীরা তাকে সেবা প্রদান করেন এবং কিছুক্ষণ পর তিনি মঞ্চেই বসে বক্তব্য চালিয়ে যান। এই দৃশ্য সমাবেশে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর মধ্যে আবেগ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দেয়।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ও অবস্থান স্পষ্ট করে দিল—জামায়াত এখন কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি আদর্শিক আন্দোলনের পথে হাঁটছে, যেখানে ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিকে একযোগে প্রতিরোধ করাই তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য।










