৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করল জামায়াত
- Update Time : ১১:২৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
- / ১৭৪ Time View

আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সমাবেশ। এই মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে উপস্থিত করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে দলটি। এসব ট্রেন রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে একবার করে যাতায়াত করবে। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়াল, ডেপুটি চিফ সুপারিনটেনডেন্ট-১ আরফিন নাহার এবং উপ-পরিচালক (ট্রাফিক ট্যারিফ) মো. খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াতের অনুরোধে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী–ঢাকা রুটে মধুমতি এক্সপ্রেস রেকে স্পেশাল ট্রেন
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের অফিস সেক্রেটারির আবেদনের ভিত্তিতে ১৮ জুলাই রাতে রাজশাহী থেকে ঢাকায় একটি বিশেষ ট্রেন চলবে এবং ১৯ জুলাই রাত ৮টায় ঢাকা থেকে ফেরত যাত্রা করবে। ট্রেনটি রাজশাহী থেকে রওনা দিয়ে ঢাকা পৌঁছাবে ভোর ৬টায়। ফিরতি ট্রেন ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে রাত ১টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছাবে। যাত্রাপথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান এবং সরদহরোড স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। রুটে চলাচলকারী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের রেক (৭৫৫/৭৫৬ নম্বর) ব্যবহার করে এই বিশেষ ট্রেন পরিচালিত হবে। উক্ত ট্রেনটি সাধারণত শনিবার বন্ধ থাকে, ফলে একই দিনে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সুযোগ মিলেছে।
সিরাজগঞ্জ–ঢাকা রুটেও চলবে এক জোড়া ট্রেন
আরেক চিঠিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী ট্রেনটি ২০ জুলাই শনিবার সকাল ৬টায় সিরাজগঞ্জবাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। সমাবেশ শেষে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ফিরতি ট্রেনটি ছেড়ে সিরাজগঞ্জবাজারে পৌঁছাবে ২১ জুলাই ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে।
ময়মনসিংহ–ঢাকা রুটে অনুমোদিত ট্রেন
এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন পরিচালনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। রেলওয়ের উপ-পরিচালক (টিটি) মো. খায়রুল কবির স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত রুটে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন।
সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
জামায়াতে ইসলামী সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের এই সমাবেশে কয়েক লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এজন্য রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ট্রেন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাস ও মাইক্রোবাসে করেও বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমাবেশে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামায়াতের এই লজিস্টিক প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে দলটি নতুন করে মাঠে সক্রিয় হওয়ার কৌশল নিয়েছে। এ ধরনের বিশাল সমাবেশ আয়োজন দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও জনসম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জামায়াত স্পেশাল ট্রেনগুলোর ভাড়া, সার্ভিস চার্জ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য পাওনা পরিশোধ করে এসব ট্রেন ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামত গ্রহণ এবং যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে সমাবেশে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষ সুবিধাজনকভাবে ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।










