সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে এনসিপির তোরণে আগুন

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০২:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

BeFunky collage 9 2507180556

BeFunky collage 9 2507180556

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে কলেজরোড এলাকায় নির্মিত একটি তোরণে মধ্যরাতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমেদুর রহমান তনু জানান, “মধ্যরাতে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের তোরণে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে তোরণটি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়। নাইটগার্ড ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে ছুটে যান এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি নিছক কোনো ভাঙচুর নয়, এটি রাজনৈতিকভাবে আমাদের দমিয়ে রাখার একটি ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করছি।”

ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা সকালেই অবহিত হয়েছি। কারা এই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে, তোরণে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথকে আরও সংকুচিত করছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে, যা দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা পর্যবেক্ষণ করবেন।

তদন্ত শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনকে আরও দৃঢ় ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নারায়ণগঞ্জে এনসিপির তোরণে আগুন

Update Time : ০২:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

BeFunky collage 9 2507180556

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে কলেজরোড এলাকায় নির্মিত একটি তোরণে মধ্যরাতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমেদুর রহমান তনু জানান, “মধ্যরাতে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের তোরণে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে তোরণটি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়। নাইটগার্ড ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে ছুটে যান এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি নিছক কোনো ভাঙচুর নয়, এটি রাজনৈতিকভাবে আমাদের দমিয়ে রাখার একটি ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করছি।”

ঘটনার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা সকালেই অবহিত হয়েছি। কারা এই অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। দোষী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে, তোরণে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথকে আরও সংকুচিত করছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বারবার এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে, যা দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা পর্যবেক্ষণ করবেন।

তদন্ত শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনকে আরও দৃঢ় ও নিরপেক্ষ হতে হবে।