আঁখের রসে তৈরি হবে কোকাকোলা:ডোনাল্ড ট্রাম্প
- Update Time : ০২:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
- / ১৩৪ Time View

আঁখের রসে তৈরি হবে কোকাকোলা: পরিবর্তনের নেতৃত্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন বাজারে কোল্ড ড্রিংকে বড় পরিবর্তনের আভাস, আখের চিনির দিকে ঝুঁকছে কোকাকোলা
কোমল পানীয় জগতে একক আধিপত্য বিস্তারকারী ব্র্যান্ড কোকাকোলা এবার এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দীর্ঘদিন ধরে অটুটভাবে ভুট্টা থেকে তৈরি উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ সিরাপ (HFCS) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে আসা এই পানীয় এবার আখের চিনি ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে—এমনটাই দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, “আমেরিকার কোমল পানীয় শিল্পে ভুট্টা সিরাপের যুগ শেষ। এখন থেকে আখের চিনি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি নিজে এ সিদ্ধান্তের পেছনে ছিলাম এবং কোকাকোলা এই বিষয়ে সম্মতিও দিয়েছে।” এই ঘোষণাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
কোকাকোলার অবস্থান এখনো অস্পষ্ট
ট্রাম্পের পোস্টের পর কোকাকোলা কোম্পানির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরুদ্ধেও কোনো মন্তব্য করেনি, যা কোম্পানির অবস্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও অতীতে প্রতিষ্ঠানটি বহুবার জানিয়ে এসেছে যে, তাদের প্রথাগত রেসিপি ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে চিনির উৎস নিয়ে বিতর্ক
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি—সে যেখান থেকেই আসুক না কেন—স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার ফ্রুকটোজ সিরাপ শরীরের জন্য তুলনামূলক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষত মেটাবলিক সিনড্রোম, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যদিও আখের চিনি এবং ভুট্টা সিরাপ দু’টিই ক্যালরিযুক্ত এবং অতিরিক্ত গ্রহণে একইরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে—বিশেষ করে মেক্সিকো, ব্রাজিল ও ইউরোপের কিছু দেশে—কোমল পানীয় তৈরিতে এখনও আখের চিনি ব্যবহার করা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কোকাকোলা যদি সত্যিই এই রূপান্তর ঘটায়, তবে এটি তাদের বৈশ্বিক রেসিপির সাথে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পেছনে রাজনৈতিক চাপ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্যনীতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অনেক সময়েই রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত হয়েছে। বর্তমান ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করলে, এটি শুধুই একটি স্বাস্থ্যবান্ধব সিদ্ধান্ত নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে মার্কিন কৃষি ও বাণিজ্যনীতিকে পুনর্গঠনের একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা। আখ চাষের পৃষ্ঠপোষকতা, ভুট্টা শিল্পের আধিপত্য কমানো এবং স্বাস্থ্যবান্ধব ব্র্যান্ড ইমেজ গঠনের একটি সম্মিলিত কৌশল হিসেবে অনেকে এ উদ্যোগকে দেখছেন।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সচিব ইতিমধ্যেই ফ্রুকটোজ সিরাপের বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুলেছেন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই অবস্থানের সঙ্গে সমন্বয় করেই কোকাকোলার ওপর নরম-সাবলীল চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে রেসিপিতে পরিবর্তন আনার জন্য।
ব্র্যান্ড ইমেজ ও মার্কেট কৌশলে বড় পরিবর্তন?
যদি সত্যিই কোকাকোলা আখের চিনি ব্যবহার শুরু করে, তাহলে এটি কোম্পানির সিগনেচার স্বাদ ও ব্র্যান্ড ভ্যালুতে একটি নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। এতে ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্মের চাহিদা এবং ভবিষ্যতের পণ্যের বাজারায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন মার্কেট বিশ্লেষকরা।
শেষ কথা
যদিও ট্রাম্পের ঘোষণায় ইতিবাচক বার্তা থাকলেও, কোকাকোলার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এরকম বড় রেসিপি পরিবর্তনে অত্যন্ত সতর্ক ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেয়। তাই আখের চিনির কোকাকোলা সত্যিই বাজারে আসবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রে কোমল পানীয় শিল্পের এক নতুন ধারা শুরু হতে চলেছে—যার সূচনা হতে পারে এই ঘোষণার মাধ্যমে।
তথ্যসূত্র:
- Truth Social – Donald J. Trump official post
- USDA Health Reports on HFCS vs Cane Sugar
- American Heart Association dietary guidelines
- Coca-Cola Company official archives










