‘গোপালগঞ্জে হামলার নির্দেশদাতা ডেভিল রানী হাসিনা’ — সোহেল তাজের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস
- Update Time : ০৫:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
- / ১৭৮ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতৃত্বে আয়োজিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে রক্তাক্ত হামলার ঘটনার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং আলোচিত রাজনীতিক সোহেল তাজ এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে নাহিদদের ওপর হামলার নির্দেশদাতা হচ্ছেন ডেভিল রানী হাসিনা।”
সোহেল তাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের” নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের নির্মূল করা। তার ভাষায়, “এই হামলা ছিল নাহিদ ইসলাম, সারজিস মিয়া, হাসনাত রেজা এবং জারা রহমানসহ কয়েকজন তরুণ নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অপচেষ্টা। আমি আশ্চর্য হব না, যদি এই হামলার নির্দেশ স্বয়ং শেখ হাসিনা দিয়ে থাকেন। কারণ তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন—গণআন্দোলন বা বিরোধী কণ্ঠ দমন করতে তাঁর সামনে কোনো নৈতিক বাধা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এই খুনি হাসিনার আত্মোপলব্ধি নেই, নেই কোনো অনুশোচনা। বরং তিনি একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুম, গণহত্যা, নির্যাতন, দুর্নীতি এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের মাধ্যমে দেশটিকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন। ছাত্র–জনতার রোষানলে পড়ে পালিয়ে গিয়ে এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। তিনি চাচ্ছেন সারা দেশকে গোপালগঞ্জ বানিয়ে ফেলতে—সন্ত্রাস, দমন–পীড়ন এবং পুলিশি বর্বরতা দিয়ে।”
গোপালগঞ্জে কী ঘটেছিল?
বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির জন্য নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়। প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হলেও পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়।
ঘটনায় নাহিদ ইসলাম, সারজিস মিয়া, জারা রহমান ও হাসনাত রেজাসহ অন্তত চারজন নিহত হন, আর আহত হন শতাধিক মানুষ—এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক এবং সাধারণ পথচারীও। আহতদের অনেকেই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও কারফিউ ঘোষণা
হামলার পর গোপালগঞ্জ জেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জেলা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। সকল ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এনসিপির আলটিমেটাম
এনসিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যেসব দুর্বৃত্ত এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণতন্ত্রের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে এ সরকার জনগণের নয়—তারা একটি নিপীড়নমূলক, ফ্যাসিবাদী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা থেমে যাব না, আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় আনতে পারে। বিশেষ করে সোহেল তাজের মতো একজন সাবেক মন্ত্রী যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করেন, তখন তা শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংবিধানিক ও আইনগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যে ‘ডেভিল রানী’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সাহসী রাজনৈতিক ভাষ্য বলে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বলছেন এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য।
গোপালগঞ্জের রক্তাক্ত ঘটনার পেছনে কারা, কার স্বার্থে, কাদের নির্দেশে এ হামলা চালানো হলো—তা এখন জাতীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। জনগণ প্রত্যাশা করছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে সোহেল তাজের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে, এবং এটা স্পষ্ট যে—বাংলাদেশ এখন এক কঠিন রাজনৈতিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।










