সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২৬৩ Time View

170945 obaed ullah al masud 170725 01 1752742415

170945 obaed ullah al masud 170725 01 1752742415

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। চলমান তদন্ত ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এ পদত্যাগকে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন নিয়োগ

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ওই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, বিশেষ করে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে আসেন মাসুদ

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ জমা হতে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেন। সেদিনের বৈঠকে তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমানকে আনার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিএফআইইউর তদন্ত হিসাব তলব

১৫ জুলাই ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। এরপর ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিশেষ অভিযান চালায় বিএফআইইউ। তদন্তকালে গত আগস্ট থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের গ্রহণ করা আর্থিক সুবিধা, ভাতা ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গভর্নরের সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যাওয়া

১৬ জুলাই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছিলেন গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গভর্নরের সাক্ষাৎ পাননি। পরে এক ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ফিরে যান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ডেপুটি গভর্নর আমাকে জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক চেয়ারম্যানদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। এটি কেবল আমার ক্ষেত্রেই নয়, সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে। ব্যাংক খাতে সংস্কার এবং জনগণের আস্থা ফেরানোর অংশ হিসেবে আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”

অবসান এক সংবেদনশীল অধ্যায়ের

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগকে অনেকেই একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনি কতটা দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকটির নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং গ্রাহক আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারবেন কিনা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

Update Time : ০৬:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

170945 obaed ullah al masud 170725 01 1752742415

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। চলমান তদন্ত ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এ পদত্যাগকে ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন নিয়োগ

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ওই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, বিশেষ করে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে আসেন মাসুদ

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ জমা হতে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেন। সেদিনের বৈঠকে তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমানকে আনার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিএফআইইউর তদন্ত হিসাব তলব

১৫ জুলাই ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। এরপর ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিশেষ অভিযান চালায় বিএফআইইউ। তদন্তকালে গত আগস্ট থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের গ্রহণ করা আর্থিক সুবিধা, ভাতা ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গভর্নরের সাক্ষাৎ না পেয়ে ফিরে যাওয়া

১৬ জুলাই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছিলেন গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গভর্নরের সাক্ষাৎ পাননি। পরে এক ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ফিরে যান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ডেপুটি গভর্নর আমাকে জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক চেয়ারম্যানদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হচ্ছে। এটি কেবল আমার ক্ষেত্রেই নয়, সব ব্যাংকের ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে। ব্যাংক খাতে সংস্কার এবং জনগণের আস্থা ফেরানোর অংশ হিসেবে আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”

অবসান এক সংবেদনশীল অধ্যায়ের

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের পদত্যাগকে অনেকেই একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনা ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনি কতটা দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে ব্যাংকটির নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং গ্রাহক আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারবেন কিনা।