গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ ও হামলা নিয়ে জামায়াতের তীব্র প্রতিক্রিয়া: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় গভীর উদ্বেগ
- Update Time : ১০:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / ১৭৫ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার গোপালগঞ্জে সংঘটিত ধারাবাহিক হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। দলটিরসেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পাঠানো এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গণতন্ত্রবিরোধী।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে এনসিপির নেতারা প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ব থেকেই যোগাযোগে ছিলেন এবং যথাযথভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ‘পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী দোসররা’ কর্মসূচি শুরুর আগেই হামলা চালায়। প্রশাসন তখন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে যা জাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জ বাংলাদেশেরই একটি অংশ, এটি যেন আলাদা কোনো ভূখণ্ড নয়। তাই দেশের সংবিধান, আইন ও প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী সেখানেও সমান হারে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখেছি, সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে পুরো একটি জেলা জিম্মি হয়ে পড়েছে।”
জামায়াতের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “আজকের হামলা নিছক রাজনৈতিক নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার একটি দৃষ্টান্ত। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শুধু এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়নি, বরং পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় প্রথম দফায় পুলিশের গাড়িতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে ইউএনও এম রাকিবুল হাসানের গাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। বেলা পৌনে ২টার দিকে শহরের পৌর পার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশস্থলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবারও হামলা করে। সমাবেশ শেষে এনসিপি নেতারা বের হলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে ফের হামলা চালানো হয়, এবং পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
এমন সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সরকার একদিকে মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়, অথচ অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর দমন-পীড়ন চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততা প্রমাণ করে, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার করছে।”
তিনি এও দাবি করেন, “গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি। বরং আওয়ামী দোসররা এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গোপালগঞ্জের ঘটনা তারই প্রমাণ।”
জামায়াত নেতার দাবি, এ ধরনের হামলা ও সহিংসতা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এছাড়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থাকে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। কোনো জেলার মানুষ যেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার না হয়।”
এই বিবৃতি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের গভীর অসন্তোষ ও শঙ্কার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।










