এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলনের ফলে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণে ৯ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন
- Update Time : ০২:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
- / ৩৪৩ Time View

এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলনের ফলে রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণে ৯ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন
অর্থনীতি ও রাজস্ব খাতের ওপর চলমান অচলাবস্থার প্রভাব পর্যালোচনায় পদক্ষেপ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কর্মকর্তাদের চলমান কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কারণে দেশের রাজস্ব আদায়ে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তার পরিমাণ ও প্রভাব নির্ধারণে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
কমিটির গঠন ও সদস্যপদ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ রবিউল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক এবং উপসচিব (প্রশাসন-১) কে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এছাড়াও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)-এর একজন করে প্রতিনিধি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দায়িত্ব ও কার্যপরিধি
কমিটিকে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রাজস্ব আহরণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ঘাটতির ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং সরকারি সেবা খাতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে—তা চিহ্নিত করাও কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষ করে, কাস্টমস হাউজ, ভ্যাট অফিস ও আয়কর বিভাগে কর্মসূচির কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং রাজস্ব আদায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কিনা, এসব বিষয়েও বিশ্লেষণ করবে কমিটি।
সময়সীমা ও প্রতিবেদন
প্রজ্ঞাপনে কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার।
পটভূমি
প্রসঙ্গত, এনবিআরের কর্মকর্তারা তাদের নিয়োগ বিধি, পদোন্নতি কাঠামো, ও চাকরির নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মবিরতি ও সীমিত আকারে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বন্দরে কাস্টমস কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং অনেক ব্যবসায়ী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক এবং শিল্পমালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজস্ব বিভাগের এমন অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়, বাজেট বাস্তবায়ন ও সামাজিক সেবাদান ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে চলমান বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও বাজেট ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এনবিআরের কার্যক্রমে স্থবিরতা জাতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই কমিটি গঠন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থার প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের বিষয়ে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। এখন দেখার বিষয়, কমিটির সুপারিশ ও বিশ্লেষণকে কীভাবে কাজে লাগানো হয় এবং কতটা দ্রুত এনবিআর পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।










