সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসির প্রতীকে যুক্ত হচ্ছে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’: ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে নৌকা

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / ২১৮ Time View

3efc7fda74f56e1fddb4507611ed6439 6877750e6b026

3efc7fda74f56e1fddb4507611ed6439 6877750e6b026

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক প্রতীক তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনরায় তালিকাভুক্ত করে ওয়েবসাইটে যুক্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ ইতোমধ্যে ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে

দুপুর ২টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক প্রতীকের গেজেট ও সংশোধিত তালিকা নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গেলেও সচিব উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। এর আগে সকালে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই নৌকা প্রতীক ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে।”

তবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন শাখা এক ভিন্ন বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, “নৌকা প্রতীক চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি। আওয়ামী লীগের দলীয় নিবন্ধন এখনো বিলুপ্ত করা হয়নি। তবে কোনো দলের নিবন্ধন স্থগিত বা বিচারাধীন থাকলে তার প্রতীক সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট থেকে সরানো হতে পারে। এটি চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা নয়।”

জামায়াতের ফিরে আসার ইঙ্গিত?

বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়ে ফেললেও, দলটির জন্য ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীতে মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দলের জন্য এবং ১৮টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
নতুন তালিকা চূড়ান্ত হলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ আরও অনেক পুরনো ও নতুন প্রতীক আবার বৈধভাবে ফিরে আসবে। এতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলোর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ কি সচেতনভাবে খোলা হচ্ছে?

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিতর্ক

নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলা এবং জামায়াতের প্রতীক যুক্ত করার উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, দলীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই একে সরকারবিরোধী শক্তির রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ অনেক বিরোধী রাজনৈতিক দল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রথম পদক্ষেপ। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে দেশ ৫০ বছর ধরে একনায়কতান্ত্রিক প্রতীকের প্রভাব দেখেছে, সেখানে প্রতীক ও দলীয় আধিপত্য ভাঙা জরুরি ছিল।”

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

ইসি বলছে, “প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বর্জন একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি ও সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন তালিকায় প্রতীক বাড়ানো মানে নির্দিষ্ট কাউকে পুনর্বাসন নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক বিকল্প তৈরি করার একটি পদক্ষেপ।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রতীক রাজনীতি

এ ধরনের প্রতীক পরিবর্তন বা পুনঃতালিকাভুক্তির প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক নিয়ে নতুনভাবে গণসংযোগ এবং নির্বাচনী কৌশল সাজানো শুরু হতে পারে।

নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলা এবং দাঁড়িপাল্লা যুক্ত করার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকভিত্তিক সংস্কৃতিতে এক বড় ধাক্কা ও পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। এটি কেবল একটি কারিগরি পরিবর্তন নয়, বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি—যেখানে রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপন, বিকল্প শক্তির উত্থান এবং নিষিদ্ধ বা বিলুপ্ত সংগঠনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও দেশের গণতন্ত্র এখন এক নতুন মোড়ের দিকে এগোচ্ছে, যার ফলাফল ভবিষ্যতেই নির্ধারিত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসির প্রতীকে যুক্ত হচ্ছে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’: ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে নৌকা

Update Time : ০৬:১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

3efc7fda74f56e1fddb4507611ed6439 6877750e6b026

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক প্রতীক তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। আজ বুধবার (১৬ জুলাই) ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনরায় তালিকাভুক্ত করে ওয়েবসাইটে যুক্ত করার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ ইতোমধ্যে ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে

দুপুর ২টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক প্রতীকের গেজেট ও সংশোধিত তালিকা নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গেলেও সচিব উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। এর আগে সকালে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই নৌকা প্রতীক ওয়েবসাইট থেকে সরানো হয়েছে।”

তবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন শাখা এক ভিন্ন বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, “নৌকা প্রতীক চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি। আওয়ামী লীগের দলীয় নিবন্ধন এখনো বিলুপ্ত করা হয়নি। তবে কোনো দলের নিবন্ধন স্থগিত বা বিচারাধীন থাকলে তার প্রতীক সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট থেকে সরানো হতে পারে। এটি চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা নয়।”

জামায়াতের ফিরে আসার ইঙ্গিত?

বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়ে ফেললেও, দলটির জন্য ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনীতে মোট ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দলের জন্য এবং ১৮টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
নতুন তালিকা চূড়ান্ত হলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ আরও অনেক পুরনো ও নতুন প্রতীক আবার বৈধভাবে ফিরে আসবে। এতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলোর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ কি সচেতনভাবে খোলা হচ্ছে?

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিতর্ক

নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলা এবং জামায়াতের প্রতীক যুক্ত করার উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, দলীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই একে সরকারবিরোধী শক্তির রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ অনেক বিরোধী রাজনৈতিক দল এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রথম পদক্ষেপ। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে দেশ ৫০ বছর ধরে একনায়কতান্ত্রিক প্রতীকের প্রভাব দেখেছে, সেখানে প্রতীক ও দলীয় আধিপত্য ভাঙা জরুরি ছিল।”

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

ইসি বলছে, “প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বর্জন একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি ও সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন তালিকায় প্রতীক বাড়ানো মানে নির্দিষ্ট কাউকে পুনর্বাসন নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক বিকল্প তৈরি করার একটি পদক্ষেপ।”

ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রতীক রাজনীতি

এ ধরনের প্রতীক পরিবর্তন বা পুনঃতালিকাভুক্তির প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীক নিয়ে নতুনভাবে গণসংযোগ এবং নির্বাচনী কৌশল সাজানো শুরু হতে পারে।

নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলা এবং দাঁড়িপাল্লা যুক্ত করার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকভিত্তিক সংস্কৃতিতে এক বড় ধাক্কা ও পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। এটি কেবল একটি কারিগরি পরিবর্তন নয়, বরং একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি—যেখানে রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপন, বিকল্প শক্তির উত্থান এবং নিষিদ্ধ বা বিলুপ্ত সংগঠনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও দেশের গণতন্ত্র এখন এক নতুন মোড়ের দিকে এগোচ্ছে, যার ফলাফল ভবিষ্যতেই নির্ধারিত হবে।