ঘুষ কেলেঙ্কারি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
- Update Time : ১০:২১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / ১৬৭ Time View

ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক এএসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) সকালেই তাদেরকে সরিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের উৎস ও ঘটনার বিবরণ
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান খাঁটিহাতা এলাকায় থামিয়ে দেন হাইওয়ে পুলিশের এএসআই পিপলু বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি টিম। তারা ভ্যানটিকে “অবৈধ পণ্য পরিবহনের” অজুহাতে আটকে রেখে গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে।
এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করে দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। বিষয়টি জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং পুলিশের উচ্চ মহলে আলোড়ন তোলে। এরই প্রেক্ষিতে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রত্যাহারকৃত সদস্যদের পরিচয়
প্রত্যাহারকৃত ছয়জন হলেন:
- ওসি মামুন রহমান
- এএসআই পিপলু বড়ুয়া
- কনস্টেবল মো. মসতু মিয়া
- কনস্টেবল সাকিবুল হাসান
- কনস্টেবল মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন
- কনস্টেবল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোদাচ্ছের এবং কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃত্তিমান চাকমা সরাসরি খাঁটিহাতা এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানিয়েছেন, “একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছয়জনকে প্রত্যাহার করে কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন দায়িত্বে এসআই সজীব
বর্তমানে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন এসআই মো. সজীব মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, “একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ছয়জন সদস্যকে একসঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমি সোমবার থেকেই নতুন দায়িত্ব পালন শুরু করেছি।”
জনমনে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা
পুলিশ বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে তারা এটিও মনে করেন, কেবলমাত্র প্রত্যাহার নয়—বিচার নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, পুলিশ সদস্যদের আচরণে অনিয়ম বা দুর্নীতি দৃশ্যমান হলে গণমাধ্যম, জনসচেতনতা এবং প্রশাসনের তৎপরতায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব—যা একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার লক্ষণ।
সতর্কতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে জনগণের আস্থা হারাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।










