তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান খালাস: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- Update Time : ১০:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / ১৭০ Time View

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা আলোচিত মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেয়া খালাসের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই ৫২ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক ও আইন-আদালতের অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
হাইকোর্টের রায় এবং খালাসের পটভূমি
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক বেঞ্চ গত ২৮ মে এই রায় প্রদান করেন। রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগে আইনগত দুর্বলতা ও প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। আদালত ডা. জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল গ্রহণ করে খালাস দেন। একইসাথে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই ধারায় দেয়া ছয় ও তিন বছরের দণ্ড থেকেও তাকে খালাস দেয়া হয়।
রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ছিল, তারেক রহমানের নামে জব্দ করা সম্পত্তি তাঁকে ফেরত দিতে হবে। আদালতের মতে, এই সম্পদ জব্দের কোনও যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়নি।
মামলার ইতিহাস ও ধারাবাহিকতা
এই মামলার সূচনা হয় ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, যখন রাজধানীর কাফরুল থানায় দুদক মামলা করে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাঁর মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, তারা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সেই সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট মামলার বিচার শেষে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান রায় প্রদান করেন, যেখানে তারেক রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তিন বছর এবং ২৭(১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসাথে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়। জুবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
আপিল, জামিন ও বিলম্ব মঞ্জুর
দীর্ঘ ৫৮৭ দিন পর গত ১৩ মে হাইকোর্ট আপিল দায়েরের বিলম্ব মঞ্জুর করে। এর ঠিক পরদিন, ১৪ মে ডা. জুবাইদা রহমান হাইকোর্টে আপিল করেন। আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে জরিমানার কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জামিন দেন।
এই আপিল শুনানির ভিত্তিতেই হাইকোর্ট মে মাসে তারেক ও জুবাইদা রহমানকে খালাস দেন এবং এখন সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হলো।
যুক্তরাজ্যে অবস্থান ও দেশে আগমন
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, জরুরি অবস্থার সময় তারেক রহমানের সাথে যুক্তরাজ্যে চলে যান ডা. জুবাইদা রহমান। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি শাশুড়ি ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তবে এক মাস অবস্থান শেষে ৬ জুন তিনি আবার লন্ডনে ফিরে যান।
রাজনৈতিক তাৎপর্য ও প্রতিক্রিয়া
এই রায়ের পর বিএনপি শিবিরে স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার-ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষ করে দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ রাজনৈতিক ও বিচারব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু একটি মামলার সমাপ্তি নয়, বরং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পটভূমির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক মহল তাকিয়ে রয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক বা রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না—তা দেখার জন্য।










