আয়কর রিটার্ন ছাড়া ৩৯টি সেবা নয়: ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরের কঠোর নির্দেশনা
- Update Time : ০৭:৫৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
- / ১৯৮ Time View

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্ন জমাকে বাধ্যতামূলক করে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এবার শুধু নির্বাচিত ক্ষেত্র নয়, মোট ৩৯টি সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্যই রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনা কার্যকর করতে গিয়ে এনবিআর কঠোরভাবে জানিয়েছে, যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সেবা দেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য—কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর নেটের আওতা বাড়ানো এবং রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা আনা।
নতুন নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত ৩৯টি সেবা:
এখন থেকে নিম্নোক্ত ৩৯টি কাজ বা সেবার জন্য আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র আবশ্যক:
- ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার সময়
- কোনো কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হওয়ার সময়
- আমদানি-রপ্তানির নিবন্ধন বা নবায়নে
- সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে
- সাধারণ বিমা সার্ভেয়ারের লাইসেন্স নবায়নে
- জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি, লিজ বা হস্তান্তরের সময়
- চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ পেশাজীবীদের সদস্যপদ নবায়নে
- বিবাহ নিবন্ধকের লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নে
- ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদ নবায়নে
- স্ট্যাম্প বা কোর্ট ফি বিক্রেতা ও দলিল লেখকের লাইসেন্স নবায়নে
- ড্রাগ, ফায়ার, পরিবেশ, কাস্টমসসহ বিভিন্ন লাইসেন্স নিতে
- গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে
- আবাসিক গ্যাস সংযোগ নিতে
- বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে
- নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট নিতে বা নবায়নে
- ইটভাটা পরিচালনার অনুমতিতে
- ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু ভর্তিতে
- কোম্পানির এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিতে
- আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে
- আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে
- ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত খোলায়
- ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনায়
- জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে
- প্রশাসনিক পদে কর্মরতদের বেতন তুলতে
- ১০ম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব সরকারি কর্মকর্তার বেতন নিতে
- মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-পেমেন্টের কমিশন পেতে
- অ্যাডভাইজরি, কনসালটেন্সি বা জনবল সরবরাহ বাবদ আয় পেতে
- বিমা এজেন্টের লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নে
- প্রাইভেট কার ছাড়া অন্য যানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস নিতে
- এনজিও অনুদান ছাড়ে
- ই-কমার্স লাইসেন্স নবায়নে
- ক্লাব সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়নে
- সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণে
- আমদানি-রপ্তানি বিল দাখিলে
- রাজউক বা পৌরসভায় ভবনের নকশা অনুমোদনে
- বাড়ি ভাড়া বা লিজ প্রদানে
- নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা সরবরাহে
- হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিক ইত্যাদির লাইসেন্স গ্রহণে
- সামাজিক বা করপোরেট ইভেন্টে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়ায়
নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তি
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যদি কেউ রিটার্ন ছাড়া এই ৩৯টি সেবা গ্রহণ করেন বা কোনো কর্মকর্তা এই নিয়ম উপেক্ষা করে সেবা দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, ব্যাংক, ব্যবসায়িক সংগঠন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে এনবিআর।
উদ্দেশ্য কী?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো:
- আয়কর রিটার্ন দাখিলকে সামাজিক অভ্যাসে রূপান্তর করা
- আয়করদাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা
- অপ্রদর্শিত আয় কমানো
- অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আনা
বর্তমানে দেশে ৯ কোটির বেশি জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি থাকলেও আয়কর রিটার্ন জমা দেয় মাত্র ৩৫-৪০ লাখ। এনবিআর চায়, অন্তত ১ কোটির বেশি মানুষকে রিটার্নের আওতায় আনা।
বাদ পড়া ১৩ সেবা
এবারের সংশোধিত তালিকায় পূর্বে রিটার্ন আবশ্যক এমন ১৩টি সেবা বাদও দেওয়া হয়েছে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বোঝা না পড়ে। তবে এনবিআর সেসবের নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করেনি।
করদাতার জন্য কর–সচেতনতা জরুরি
এই কঠোর নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গেলে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, বরং কর–সচেতনতা ও কর সংস্কৃতির প্রসার জরুরি। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করলে যেমন ব্যক্তি আইনি সুরক্ষা পান, তেমনি জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এনবিআরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছাড়া এটি সাধারণ নাগরিকের জন্য হয়রানির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই সরকারের উচিত হবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, পাশাপাশি করদাতাদের জন্য সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি করা।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), অর্থ মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যম রিপোর্ট.











amar 3 bosorer jome ase, ekhon sob porisod kore jomi bechte parmo????