সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“সমালোচনায় শালীনতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন” — আহ্বান জামায়াত আমিরের

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:২৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / ২০৬ Time View

WhatsApp Image 2025 07 13 at 24407 PM 2507130854

WhatsApp Image 2025 07 13 at 24407 PM 2507130854

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অস্থিরতা, বেদনাদায়ক ঘটনা ও সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মতপ্রকাশের অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, স্পর্শকাতর সময়ে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের জায়গা তৈরি হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, সমাজজীবনে যে অশান্তি, দুঃখজনক ঘটনা এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের কারণে নয়। বরং সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই দায় কাঁধে নিতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও, সেই মতপ্রকাশ যেন হয় যুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও শালীন ভঙ্গিতে। **“অন্যায়ের প্রতিবাদ হোক সংযত ভাষায়, আর সমালোচনা হোক তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে”—**এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অযাচিত ভাষা, গালাগাল বা চরিত্রহননের প্রবণতা সমাজে আরও বিভেদ সৃষ্টি করে এবং শান্তির পথ রুদ্ধ করে দেয়।

ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে সতর্ক করেন এমন ধরনের বক্তব্য বা আচরণ থেকে বিরত থাকতে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায় বা রাজনৈতিক শত্রুতার আগুনে ঘি ঢালে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ সমাজজীবনে কেবল বিশৃঙ্খলা, বিষোদগার অনৈক্যের বীজ বপন করবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মতের ভিন্নতা থাকবেই, কিন্তু সেটি যেন দ্বন্দ্বের পর্যায়ে না যায়—এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন জাতি এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সম্মিলিত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখতে পারে।

এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি সমাজজীবনে বিভাজনের রেখা আরও গভীর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বার্তা শুধু তার দলের জন্য নয়, বরং গোটা জাতির জন্যই একটি সময়োচিত এবং দায়িত্বশীল আহ্বান।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“সমালোচনায় শালীনতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন” — আহ্বান জামায়াত আমিরের

Update Time : ০৩:২৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

WhatsApp Image 2025 07 13 at 24407 PM 2507130854

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অস্থিরতা, বেদনাদায়ক ঘটনা ও সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মতপ্রকাশের অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, স্পর্শকাতর সময়ে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের জায়গা তৈরি হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, সমাজজীবনে যে অশান্তি, দুঃখজনক ঘটনা এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের কারণে নয়। বরং সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই দায় কাঁধে নিতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও, সেই মতপ্রকাশ যেন হয় যুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও শালীন ভঙ্গিতে। **“অন্যায়ের প্রতিবাদ হোক সংযত ভাষায়, আর সমালোচনা হোক তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে”—**এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অযাচিত ভাষা, গালাগাল বা চরিত্রহননের প্রবণতা সমাজে আরও বিভেদ সৃষ্টি করে এবং শান্তির পথ রুদ্ধ করে দেয়।

ডা. শফিকুর রহমান বিশেষভাবে সতর্ক করেন এমন ধরনের বক্তব্য বা আচরণ থেকে বিরত থাকতে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায় বা রাজনৈতিক শত্রুতার আগুনে ঘি ঢালে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ সমাজজীবনে কেবল বিশৃঙ্খলা, বিষোদগার অনৈক্যের বীজ বপন করবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মতের ভিন্নতা থাকবেই, কিন্তু সেটি যেন দ্বন্দ্বের পর্যায়ে না যায়—এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন জাতি এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সম্মিলিত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে সকলে অবদান রাখতে পারে।

এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি সমাজজীবনে বিভাজনের রেখা আরও গভীর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বার্তা শুধু তার দলের জন্য নয়, বরং গোটা জাতির জন্যই একটি সময়োচিত এবং দায়িত্বশীল আহ্বান।