জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার মতামত বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত: ডা. তাহের
- Update Time : ০৭:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
- / ১৮০ Time View

নির্বাচনী ব্যবস্থা ও জরুরি অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সর্বদলীয় মতামতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেবল প্রধানমন্ত্রী নয়, বিরোধী দলীয় নেতা বা উপনেতার মতামত নেওয়াও বাধ্যতামূলক করা উচিত। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতির জারি করা জরুরি অবস্থার অধ্যাদেশের আগে একটি সম্মিলিত ও প্রতিনিধিত্বমূলক মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়া প্রয়োজন।
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বাদশ দিনের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ডা. তাহের বলেন, “বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার ঘোষণায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন এবং তাতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতেই কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত যদি শুধুমাত্র সরকারের পক্ষ থেকে আসে, তাহলে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রস্তাব হলো, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা কিংবা তার অনুপস্থিতিতে উপনেতার মতামত বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো কারণে জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকে, তবে সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।” এই প্রক্রিয়াকে তিনি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
ডা. তাহের স্পষ্ট করে জানান, জরুরি অবস্থার ঘোষণা যাতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করার উপায় না হয়, সেজন্য আইনের অপব্যবহারের সুযোগ রুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থার অপপ্রয়োগ ঘটলে বিরোধী দলীয় নেতার প্রকাশ্য আপত্তি জানাতে আইনগত অধিকার থাকতে হবে। এ বিষয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।”
এ সময় বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তুলে ধরেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। কারণ যদি একাধিক ব্যক্তির মধ্য থেকে প্যানেলের মাধ্যমে বাছাই হয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফ্যাসিবাদের পন্থায় অনুগত কাউকে বসানোর ঝুঁকি থেকে যায়।” তবে, তিনি স্বীকার করেন—এ বিষয়ে এখনো সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে একমত তৈরি হয়নি। কয়েকটি দল চায় একটি নির্দিষ্ট প্যানেল গঠনের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি বাছাই হোক।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, “এটি নিয়ে আলোচনা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, যাতে সব দলের আস্থা অর্জিত হয় এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হয়।”
তিনি এও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ও একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, আর এর অন্যতম ভিত্তি হতে পারে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া।”
ডা. তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, জামায়াত রাজনৈতিক সহমতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনের পক্ষে। জরুরি অবস্থা কিংবা প্রধান বিচারপতি নিয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।











