সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসে প্রথমবার: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / ৩১৫ Time View

Jamat e islami

Jamat e islami

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের নেতারা জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ২০২৫, দলটি প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি একক রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা জামায়াতের জন্য এক প্রকার মাইলফলক। এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াত

জামায়াতের ইতিহাসে এটি হবে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে আয়োজিত কোনো সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অতীতে দলটি পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম, নয়াপল্টন ও জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলেও, প্রতীকী ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যানে কখনও এককভাবে জনসমাবেশ করেনি। এই প্রেক্ষাপটে, ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে দলটির নেতারা এটিকে ‘ঐতিহাসিক ও কৌশলগত টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রথম আমাদের দলীয় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা চাই, এই আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হোক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবি জোরালো হোক।”

লক্ষ্য বার্তা: জনসম্পৃক্ততা রাজনৈতিক বার্তা

সমাবেশটি কেবল একটি সাংগঠনিক প্রদর্শনী নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। জামায়াতের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, যদি না ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হয়। তারা সমাবেশের মাধ্যমে সংবিধানসম্মত নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির বাস্তবায়ন, এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংস্কারসহ কয়েকটি মূল দাবিকে সামনে আনছে।

জামায়াতের ভাষ্যমতে, নির্বাচনের আগে এসব ইস্যুতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও জনমত গঠনের অংশ হিসেবেই এ জাতীয় সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তীব্র বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য, মতবিনিময় এবং আন্দোলনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক সে সময়েই জামায়াত এই ‘শান্তিপূর্ণ অথচ শক্তিশালী বার্তা’ দিতে চাচ্ছে। অতীতে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম, ওলামা মাশায়েখ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একাধিকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সমাবেশ করেছে। কিন্তু জামায়াতের উপস্থিতি সেই তুলনায় ছিল অনেক সীমিত। সম্প্রতি ছাড়া (কারাবন্দী নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পল্টনে একটি সমাবেশ) রাজধানীতে বড় কোনো জমায়েত করতে দেখা যায়নি জামায়াতকে।

এবার দলটির উদ্দেশ্য হলো—নীরবভাবে, কিন্তু ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: পুনর্জাগরণ বৈধতা

১৯৪১ সালে লাহোরে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশজুড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শ বিস্তার করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে দলটি নিষিদ্ধ হয়। পরে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে জামায়াত আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে।

স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালে বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াত প্রথম প্রকাশ্যে জনসভা করে। তবে এরপর এত দীর্ঘ সময়েও দলটি কখনোই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে সমাবেশ করতে পারেনি, যা তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতার একটি ঘাটতির প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখা হতো। এই প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের সমাবেশ দলটির জন্য আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ।

প্রস্তুতি সংগঠনিক কাঠামো

সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে একটি মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক উপকমিটি গঠন করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে। লক্ষ্য একটাই—সমাবেশে যেন বিপুল জনসমাগম হয় এবং সেটি যেন শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি দলীয় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এই সমাবেশ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি হবে আমাদের আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণার মঞ্চ। শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলায় আমরা ইসলামি শাসন ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এই সমাবেশ সেই নব জাগরণের শুরু।”

রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে অগ্রযাত্রা?

নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতের এই সমাবেশ কেবল একটি সভা নয়—এটি দলটির রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সম্ভাব্য সূচনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিতির মাধ্যমে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, যা পরবর্তী সময়ের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। সমাবেশের সফলতা অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে, জামায়াত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

সর্বোপরি, ১৯ জুলাইয়ের সোহরাওয়ার্দী সমাবেশ বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আসন্ন নির্বাচনের পটভূমিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে—যদি না তা নিরাপত্তাজনিত বা রাজনৈতিক কোনো বাধার মুখে পড়ে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

One thought on “ইতিহাসে প্রথমবার: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইতিহাসে প্রথমবার: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী

Update Time : ০৬:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

Jamat e islami

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের নেতারা জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ২০২৫, দলটি প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি একক রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা জামায়াতের জন্য এক প্রকার মাইলফলক। এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দীতে জামায়াত

জামায়াতের ইতিহাসে এটি হবে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে আয়োজিত কোনো সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অতীতে দলটি পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম, নয়াপল্টন ও জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করলেও, প্রতীকী ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যানে কখনও এককভাবে জনসমাবেশ করেনি। এই প্রেক্ষাপটে, ১৯ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে দলটির নেতারা এটিকে ‘ঐতিহাসিক ও কৌশলগত টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রথম আমাদের দলীয় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা চাই, এই আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হোক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক নির্বাচনী ব্যবস্থার দাবি জোরালো হোক।”

লক্ষ্য বার্তা: জনসম্পৃক্ততা রাজনৈতিক বার্তা

সমাবেশটি কেবল একটি সাংগঠনিক প্রদর্শনী নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। জামায়াতের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, যদি না ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হয়। তারা সমাবেশের মাধ্যমে সংবিধানসম্মত নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির বাস্তবায়ন, এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংস্কারসহ কয়েকটি মূল দাবিকে সামনে আনছে।

জামায়াতের ভাষ্যমতে, নির্বাচনের আগে এসব ইস্যুতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও জনমত গঠনের অংশ হিসেবেই এ জাতীয় সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তীব্র বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য, মতবিনিময় এবং আন্দোলনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক সে সময়েই জামায়াত এই ‘শান্তিপূর্ণ অথচ শক্তিশালী বার্তা’ দিতে চাচ্ছে। অতীতে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম, ওলামা মাশায়েখ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একাধিকবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় সমাবেশ করেছে। কিন্তু জামায়াতের উপস্থিতি সেই তুলনায় ছিল অনেক সীমিত। সম্প্রতি ছাড়া (কারাবন্দী নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পল্টনে একটি সমাবেশ) রাজধানীতে বড় কোনো জমায়েত করতে দেখা যায়নি জামায়াতকে।

এবার দলটির উদ্দেশ্য হলো—নীরবভাবে, কিন্তু ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: পুনর্জাগরণ বৈধতা

১৯৪১ সালে লাহোরে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশজুড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শ বিস্তার করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে দলটি নিষিদ্ধ হয়। পরে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে জামায়াত আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে।

স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালে বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াত প্রথম প্রকাশ্যে জনসভা করে। তবে এরপর এত দীর্ঘ সময়েও দলটি কখনোই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে সমাবেশ করতে পারেনি, যা তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতার একটি ঘাটতির প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখা হতো। এই প্রেক্ষাপটে, চলতি বছরের সমাবেশ দলটির জন্য আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ।

প্রস্তুতি সংগঠনিক কাঠামো

সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে একটি মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক উপকমিটি গঠন করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে। লক্ষ্য একটাই—সমাবেশে যেন বিপুল জনসমাগম হয় এবং সেটি যেন শৃঙ্খলাপূর্ণ হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি দলীয় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এই সমাবেশ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি হবে আমাদের আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণার মঞ্চ। শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলায় আমরা ইসলামি শাসন ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এই সমাবেশ সেই নব জাগরণের শুরু।”

রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে অগ্রযাত্রা?

নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতের এই সমাবেশ কেবল একটি সভা নয়—এটি দলটির রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সম্ভাব্য সূচনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিতির মাধ্যমে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, যা পরবর্তী সময়ের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। সমাবেশের সফলতা অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে, জামায়াত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

সর্বোপরি, ১৯ জুলাইয়ের সোহরাওয়ার্দী সমাবেশ বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আসন্ন নির্বাচনের পটভূমিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে—যদি না তা নিরাপত্তাজনিত বা রাজনৈতিক কোনো বাধার মুখে পড়ে।