সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়: আরাম পান প্রাকৃতিকভাবেই

সাজেদা আক্তার
  • Update Time : ০৭:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯৩ Time View

684184db86480931cde6f3fa56b94ee5 686ba61def9e8

684184db86480931cde6f3fa56b94ee5 686ba61def9e8

 

নারীজীবনের একটি স্বাভাবিক কিন্তু কষ্টকর সময় হলো পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব। এ সময় শরীরে নানা হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে অনেকেই তলপেটে ও কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব এবং মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী স্বাস্থ্য গবেষক ড. কেটি ভিনসেন্ট-এর মতে, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনস নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ জরায়ুর পেশিকে সংকুচিত করে, যার ফলে পিরিয়ডের সময় ব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা এতই তীব্র হয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন পর্যন্ত ব্যাহত হয়।

ঔষধ ছাড়াও প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে এই যন্ত্রণাকে অনেকটাই সহনীয় করে তোলা সম্ভব। নিচে উল্লেখ করা হলো এমন কিছু কার্যকর উপায়:

 

গরম পানির সেঁক

পিরিয়ডের সময় তলপেট ও কোমরের ব্যথা অনেক নারীর জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় গরম পানির সেঁক একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সহজলভ্য পদ্ধতি। হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম পানির বোতল ব্যবহার করে তলপেটে কিংবা পিঠে সেঁক দিলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং সংকুচিত পেশি শিথিল হয়, ফলে ব্যথা কমে আসে। আপনি চাইলে গরম পানি দিয়ে গোসলও করতে পারেন, যা শুধু শরীরের ব্যথা কমায় না, মানসিকভাবেও আরাম দেয়। প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট সেঁক দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

ভেষজ চা

ভেষজ চা প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। যেমন—ক্যামোমাইল চা-তে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা জরায়ুর পেশি শিথিল করে এবং ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক। অন্যদিকে, পেপারমিন্ট চা হজমের সমস্যা, গ্যাস এবং ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গে কার্যকর। পিরিয়ডের সময় দিনে অন্তত ২–৩ বার ভেষজ চা পান করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। চাইলে লেবু বা মধু যোগ করে স্বাদও বাড়াতে পারেন।

 

 আদা

আদা হল একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক উপাদান। পিরিয়ডের সময় এর ব্যবহার বিশেষ উপকারী। আদা চা বা আদা পানীয় তৈরি করে পান করলে জরায়ুর প্রদাহ কমে এবং পেশির খিঁচুনি হ্রাস পায়। আপনি চাইলে টুকরো আদা, মধু ও গরম পানি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করতে পারেন এবং দিনে ৩–৪ বার তা পান করতে পারেন। এটি বমিভাব ও ক্লান্তিও দূর করতে সহায়তা করে।

 

কাঁচা পেঁপে

কাঁচা পেঁপে দীর্ঘদিন ধরেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় জরায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি জরায়ুর পেশিকে শিথিল করে এবং প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনসের প্রভাব হ্রাস করে, ফলে ব্যথা কমে যায়। আপনি কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন বা জুস তৈরি করেও খেতে পারেন। পিরিয়ডের সময় পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে দারুণ উপকার পাবেন।

 

ল্যাভেন্ডার অয়েল ম্যাসাজ

ল্যাভেন্ডার অয়েল শুধুমাত্র একটি সুগন্ধি তেল নয়, এটি পেশি শিথিলকারী ও মানসিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবেও কাজ করে। পিরিয়ডের সময় তলপেটে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল নিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এটি শরীরের ক্লান্তি কমায় এবং মানসিক অস্থিরতা দূর করে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ম্যাসাজ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

জোয়ান পানি

জোয়ান, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় কারম সিড, এতে থাকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও ভেষজ উপাদান যা হজম সহায়ক এবং ব্যথা প্রশমনে সহায়তাকারী। পিরিয়ডের সময় অনেক নারীর হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ১ চা চামচ জোয়ান ১ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি দিনে ২–৩ বার পান করলে পেট ব্যথা, গ্যাস ও অস্বস্তি কমে যায়। এটি একটি সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য ঘরোয়া প্রতিকার।

 

অ্যালোভেরা রস

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পিরিয়ডের সময়ের জ্বালা ও ব্যথা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে দিনে ২–৩ বার পান করলে ব্যথা দ্রুত কমে আসে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, ত্বক ও লিভারের জন্যও উপকারী।

 

প্রচুর পানি পান

পিরিয়ডের সময় শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। পানিশূন্যতা শুধু ক্লান্তি বাড়ায় না, বরং ব্যথাও বাড়াতে পারে। তাই এই সময় পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন। পাশাপাশি নারকেল পানি, লেবু পানি বা ফলের রস খেলে পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীর থাকে সতেজ ও ব্যথামুক্ত।

 

 নারকেল বা তিল তেলের ম্যাসাজ

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, নারকেল ও তিল তেল পেশির সংকোচন কমাতে ও প্রদাহ প্রশমনে সহায়ক। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও লিনোলিক অ্যাসিড ত্বকে শোষিত হয়ে পেশি আরাম দেয়। তলপেটে নিয়মিত ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির টান কমে গিয়ে ব্যথা হ্রাস পায়। এটি মানসিক স্বস্তিও দেয়।

 

হালকা ব্যায়াম যোগব্যায়াম

যদিও অনেকেই ব্যথার ভয়ে পিরিয়ডের সময় ব্যায়াম এড়িয়ে চলেন, তবে হালকা ফিজিক্যাল এক্টিভিটি যেমন হাঁটা, সহজ যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে শরীরে এন্ডোর্ফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় প্রমাণিত, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম পিরিয়ডের ব্যথা ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

 

সুষম পুষ্টিকর খাবার

পিরিয়ডের সময় পেশির খিঁচুনি ও দুর্বলতা কমাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। ভিটামিন , বি১, বি৬ সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন চীনাবাদাম, কলা, আপেল, পোস্তদানা, গম, মাছ, ডিম ও সবুজ শাকসবজি জরায়ুর পেশিকে শিথিল করে এবং শরীরের ক্লান্তি কমায়। এসব খাবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক।

 

শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তিশালী পদ্ধতি যা শরীর ও মন দুটিকেই প্রশান্ত করে। একহাত বুকের ওপর ও অন্য হাত পেটের ওপর রেখে ধীরে নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিন, যেন পেট ফুলে যায়। এরপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন, যেন আপনি একটি মোমবাতি নিভাচ্ছেন। এ ব্যায়ামটি মানসিক চাপ ও ব্যথা উভয়ই কমায় এবং মন শান্ত রাখে।

 

শেষ কথা

ঋতুকালীন ব্যথা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এর প্রতিকারও সম্ভব—প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ব্যায়াম এবং ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণের মাধ্যমে আপনি পিরিয়ডের সময়টিকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলতে পারেন। তবে ব্যথা যদি অতিমাত্রায় তীব্র হয় কিংবা নিয়মিতভাবে দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সাজেদা আক্তার

সাজেদা আক্তার একজন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী এবং দক্ষ কলামিস্ট, যিনি সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিডিবো নিউজে, তিনি সমাজ, পরিবার এবং জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখেন। একজন অভিজ্ঞ কলামিস্ট হিসেবে, তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সমাজিক বিষয়, পারিবারিক গতিশীলতা এবং বিভিন্ন জীবনধারা সম্পর্কিত ভাবনাপ্রসূত বিষয়গুলি নিয়ে লেখেন। সামাজিক প্রবণতাগুলি বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা তাকে এই ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান দিয়েছে। সাজেদা আক্তারের কাজ শুধু পাঠকদের তথ্য প্রদান করে না, বরং তাদের অনুপ্রাণিতও করে, যা তাকে সাংবাদিকতা এবং সমাজবিজ্ঞানের জগতে সম্মানিত একটি কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়: আরাম পান প্রাকৃতিকভাবেই

Update Time : ০৭:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

684184db86480931cde6f3fa56b94ee5 686ba61def9e8

 

নারীজীবনের একটি স্বাভাবিক কিন্তু কষ্টকর সময় হলো পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব। এ সময় শরীরে নানা হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে অনেকেই তলপেটে ও কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব এবং মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী স্বাস্থ্য গবেষক ড. কেটি ভিনসেন্ট-এর মতে, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনস নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ জরায়ুর পেশিকে সংকুচিত করে, যার ফলে পিরিয়ডের সময় ব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা এতই তীব্র হয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন পর্যন্ত ব্যাহত হয়।

ঔষধ ছাড়াও প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে এই যন্ত্রণাকে অনেকটাই সহনীয় করে তোলা সম্ভব। নিচে উল্লেখ করা হলো এমন কিছু কার্যকর উপায়:

 

গরম পানির সেঁক

পিরিয়ডের সময় তলপেট ও কোমরের ব্যথা অনেক নারীর জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় গরম পানির সেঁক একটি অত্যন্ত কার্যকর ও সহজলভ্য পদ্ধতি। হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম পানির বোতল ব্যবহার করে তলপেটে কিংবা পিঠে সেঁক দিলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং সংকুচিত পেশি শিথিল হয়, ফলে ব্যথা কমে আসে। আপনি চাইলে গরম পানি দিয়ে গোসলও করতে পারেন, যা শুধু শরীরের ব্যথা কমায় না, মানসিকভাবেও আরাম দেয়। প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট সেঁক দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

ভেষজ চা

ভেষজ চা প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। যেমন—ক্যামোমাইল চা-তে থাকে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা জরায়ুর পেশি শিথিল করে এবং ব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক। অন্যদিকে, পেপারমিন্ট চা হজমের সমস্যা, গ্যাস এবং ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গে কার্যকর। পিরিয়ডের সময় দিনে অন্তত ২–৩ বার ভেষজ চা পান করলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। চাইলে লেবু বা মধু যোগ করে স্বাদও বাড়াতে পারেন।

 

 আদা

আদা হল একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক উপাদান। পিরিয়ডের সময় এর ব্যবহার বিশেষ উপকারী। আদা চা বা আদা পানীয় তৈরি করে পান করলে জরায়ুর প্রদাহ কমে এবং পেশির খিঁচুনি হ্রাস পায়। আপনি চাইলে টুকরো আদা, মধু ও গরম পানি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করতে পারেন এবং দিনে ৩–৪ বার তা পান করতে পারেন। এটি বমিভাব ও ক্লান্তিও দূর করতে সহায়তা করে।

 

কাঁচা পেঁপে

কাঁচা পেঁপে দীর্ঘদিন ধরেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় জরায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি জরায়ুর পেশিকে শিথিল করে এবং প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনসের প্রভাব হ্রাস করে, ফলে ব্যথা কমে যায়। আপনি কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন বা জুস তৈরি করেও খেতে পারেন। পিরিয়ডের সময় পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে দারুণ উপকার পাবেন।

 

ল্যাভেন্ডার অয়েল ম্যাসাজ

ল্যাভেন্ডার অয়েল শুধুমাত্র একটি সুগন্ধি তেল নয়, এটি পেশি শিথিলকারী ও মানসিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবেও কাজ করে। পিরিয়ডের সময় তলপেটে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল নিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এটি শরীরের ক্লান্তি কমায় এবং মানসিক অস্থিরতা দূর করে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ম্যাসাজ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

জোয়ান পানি

জোয়ান, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় কারম সিড, এতে থাকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও ভেষজ উপাদান যা হজম সহায়ক এবং ব্যথা প্রশমনে সহায়তাকারী। পিরিয়ডের সময় অনেক নারীর হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ১ চা চামচ জোয়ান ১ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি দিনে ২–৩ বার পান করলে পেট ব্যথা, গ্যাস ও অস্বস্তি কমে যায়। এটি একটি সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য ঘরোয়া প্রতিকার।

 

অ্যালোভেরা রস

অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং পিরিয়ডের সময়ের জ্বালা ও ব্যথা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে দিনে ২–৩ বার পান করলে ব্যথা দ্রুত কমে আসে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, ত্বক ও লিভারের জন্যও উপকারী।

 

প্রচুর পানি পান

পিরিয়ডের সময় শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। পানিশূন্যতা শুধু ক্লান্তি বাড়ায় না, বরং ব্যথাও বাড়াতে পারে। তাই এই সময় পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন। পাশাপাশি নারকেল পানি, লেবু পানি বা ফলের রস খেলে পানির ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীর থাকে সতেজ ও ব্যথামুক্ত।

 

 নারকেল বা তিল তেলের ম্যাসাজ

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, নারকেল ও তিল তেল পেশির সংকোচন কমাতে ও প্রদাহ প্রশমনে সহায়ক। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও লিনোলিক অ্যাসিড ত্বকে শোষিত হয়ে পেশি আরাম দেয়। তলপেটে নিয়মিত ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির টান কমে গিয়ে ব্যথা হ্রাস পায়। এটি মানসিক স্বস্তিও দেয়।

 

হালকা ব্যায়াম যোগব্যায়াম

যদিও অনেকেই ব্যথার ভয়ে পিরিয়ডের সময় ব্যায়াম এড়িয়ে চলেন, তবে হালকা ফিজিক্যাল এক্টিভিটি যেমন হাঁটা, সহজ যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে শরীরে এন্ডোর্ফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় প্রমাণিত, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম পিরিয়ডের ব্যথা ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত বা ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

 

সুষম পুষ্টিকর খাবার

পিরিয়ডের সময় পেশির খিঁচুনি ও দুর্বলতা কমাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। ভিটামিন , বি১, বি৬ সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন চীনাবাদাম, কলা, আপেল, পোস্তদানা, গম, মাছ, ডিম ও সবুজ শাকসবজি জরায়ুর পেশিকে শিথিল করে এবং শরীরের ক্লান্তি কমায়। এসব খাবার হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক।

 

শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তিশালী পদ্ধতি যা শরীর ও মন দুটিকেই প্রশান্ত করে। একহাত বুকের ওপর ও অন্য হাত পেটের ওপর রেখে ধীরে নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিন, যেন পেট ফুলে যায়। এরপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন, যেন আপনি একটি মোমবাতি নিভাচ্ছেন। এ ব্যায়ামটি মানসিক চাপ ও ব্যথা উভয়ই কমায় এবং মন শান্ত রাখে।

 

শেষ কথা

ঋতুকালীন ব্যথা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এর প্রতিকারও সম্ভব—প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়ে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা ব্যায়াম এবং ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণের মাধ্যমে আপনি পিরিয়ডের সময়টিকে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তুলতে পারেন। তবে ব্যথা যদি অতিমাত্রায় তীব্র হয় কিংবা নিয়মিতভাবে দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের যত্ন নিন।