সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসদাচরণ ও অনুপস্থিতির অভিযোগে এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা রইস সাময়িক বরখাস্ত

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / ১২৬ Time View

671cfa4562404c2412c8b6173eccc824 68700719af4ce

671cfa4562404c2412c8b6173eccc824 68700719af4ce

অসদাচরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না ফেরার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব তানজিনা রইসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তানজিনা রইস ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন, তবে নির্ধারিত সময় শেষে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তার নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। তবে তিনি কোনোবারই সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তার এ ধরনের আচরণকে সরকার ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এর প্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ), ৩(গ) এবং ১২(১) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তানজিনা রইস নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একজন প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা যেভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও সরকারি সেবার মান ক্ষুণ্ন করে।

উল্লেখ্য, এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়করণ ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন আচরণে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এলো সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহিতার বিষয়টি—যা এখন প্রশাসনিক সংস্কারে বিশেষ নজরের দাবি রাখে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অসদাচরণ ও অনুপস্থিতির অভিযোগে এনবিআরের প্রথম সচিব তানজিনা রইস সাময়িক বরখাস্ত

Update Time : ১১:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

671cfa4562404c2412c8b6173eccc824 68700719af4ce

অসদাচরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না ফেরার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব তানজিনা রইসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তানজিনা রইস ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন, তবে নির্ধারিত সময় শেষে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, তার নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পর একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। তবে তিনি কোনোবারই সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তার এ ধরনের আচরণকে সরকার ‘অসদাচরণ’ এবং ‘পলায়ন’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এর প্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ), ৩(গ) এবং ১২(১) ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তানজিনা রইস নিয়ম অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একজন প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা যেভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নির্দেশনা উপেক্ষা করেছেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও সরকারি সেবার মান ক্ষুণ্ন করে।

উল্লেখ্য, এনবিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আদায়করণ ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন আচরণে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এলো সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহিতার বিষয়টি—যা এখন প্রশাসনিক সংস্কারে বিশেষ নজরের দাবি রাখে।