হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য: “জুলাই সনদ, বিচার, নির্বাচন—সবকিছু হতে হবে প্যাকেজ আকারে”
- Update Time : ০৩:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
- / ১৮২ Time View

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা যেন ‘সংস্কার ঠেকানোর অজুহাতে’ পিছিয়ে না যায়। আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার—জুলাই সনদ, ন্যায়বিচার এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
শুক্রবার (১১ জুলাই) যশোরে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে যশোর শহরের একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ১১টায়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “৫ আগস্টের আগে যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা ছিল, তা ত্রুটিপূর্ণ এবং সেটিতে ফেরা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিয়ে আর কোনোভাবেই নির্বাচন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্টের দিনটি ইতিহাসে ‘মব’ (MOB) হিসেবে অভিহিত হবে, কারণ ভোট ফেরানোর নামে আওয়ামী লীগ যেভাবে অপ-রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে, তা গণতন্ত্র ও সংবিধান উভয়ের জন্যই হুমকি। আমাদের আন্দোলন যদি তারা দমন করতে চায়, তবে আমাদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়া হবে—এই ছক আগেই আঁকা হয়েছে।”
বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৬ বছরে আন্দোলনে তৃণমূল কর্মীরা বারবার নিপীড়িত হয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন, গুম হয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা রাজনীতির চেয়ে ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। আমরা তৃণমূল কর্মীদের রক্ত আর ত্যাগের সঙ্গে এই বেঈমানি মেনে নেব না।”
তিনি কঠোরভাবে বলেন, “বিএনপি এখন মনে করে তাদের ইচ্ছেমতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, অথচ তারা মাঠে নেই। মাঠের বাইরে থেকে খেলোয়াড় সেজে আর চলবে না। খেলতে চাইলে মাঠে নামতে হবে। কমিশনের অনেক সদস্য সন্দেহজনক ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আমরা সোচ্চার থাকবো।”
হাসনাত আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এবং দলনিরপেক্ষ প্রশাসন। এখন যা চলছে, তা একটি ‘ব্যক্তিপূজার’ সংস্কৃতি। এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য ৩ আগস্ট আমরা ‘জুলাই সনদ’-এর দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করবো। আমি সবাইকে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”
জুলাই আন্দোলনের আহতদের চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ ওঠায় হাসনাত বলেন, “স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করছেন না। তবে এনসিপি আহতদের চিকিৎসায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
সভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীও। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ এখনো ঘোষিত হয়নি। অথচ এই সনদের মধ্যেই আছে আমাদের মুক্তির পথ। এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকার বলছে, গণপরিষদের ভোট ছাড়া তা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বলি, সংবিধান যদি জনগণের চাহিদা প্রতিফলিত না করে, তবে তা সংশোধন করতেই হবে। তা না হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে যাবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারা, নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় যশোর জেলার ৪ শহীদ পরিবারের সদস্য ও ১৫ জন আহত ব্যক্তি অংশ নেন।
সভাটি ছিল উত্তাল, প্রত্যয়বদ্ধ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি দৃঢ় অবস্থান প্রকাশের মঞ্চ। ‘জুলাই আন্দোলন’কে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রূপ দিতে এনসিপি নেতারা মাঠে সক্রিয় অবস্থানে আছেন বলে জানান আয়োজকরা।











