ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচি: ছয় দফা দাবিতে সরকারের প্রতি আহ্বান
- Update Time : ০৩:০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
- / ১৯৮ Time View

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জেলা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন কমিটি। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
কমিটির সভাপতি সালাহ উদ্দিন টিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের সহ-সভাপতি ও সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি আরশাদুল ইসলাম, নাসিরনগর উপজেলার আহ্বায়ক আলী আকরাম খন্দকার স্বপন, বিজয়নগর উপজেলা সভাপতি তাছলিমা খন্দকার, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নাজির আহমেদ এবং জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আহমেদ।
এছাড়া কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আরও অনেক সদস্য— অজিত দেবনাথ, রাজীব চন্দ্র দাস, সুজন খান, আলমাছ উদ্দিন, আল মামুন, ফজল প্রমুখ।
ছয় দফা দাবি এবং বক্তাদের বক্তব্য
বক্তারা তাদের ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, এসব দাবি শুধু স্বাস্থ্য সহকারীদের চাকরি উন্নয়নের জন্য নয়, বরং দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মাঠপর্যায়ের হাজারো কর্মীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- স্বাস্থ্য সহকারীদের সরকারি কর্মচারী মর্যাদা ও জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ,
- দীর্ঘদিন কর্মরতদের স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির সুযোগ,
- টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তির নিশ্চয়তা,
- কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সুযোগ,
- স্বাস্থ্য সহকারীদের জন্য পৃথক ক্যাডার ব্যবস্থা বা আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো,
- মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও যথাযথ সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
বক্তারা দাবি করেন, এই ছয় দফা বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য সহকারীদের পেশাগত মর্যাদা যেমন প্রতিষ্ঠা পাবে, তেমনি মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান ও আন্দোলনের ঘোষণা
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনো রাজনীতি করছি না, আমরা ন্যায্য অধিকার চাই। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”
তারা আরও জানান, সরকার যদি যথাসময়ে দাবিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না করে, তাহলে সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন নেতারা।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য সহকারীরা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভিত্তি। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু অনেকদিন ধরেই তারা বেতন বৈষম্য, চাকরি নিরাপত্তার অভাব, ও পদোন্নতির অপ্রতুল সুযোগের অভিযোগ জানিয়ে আসছেন।
এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা আবারও সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন— যাতে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটে এবং তারা সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারেন।





