সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: বললেন, ‘এটা হাস্যকর’

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ১০:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২৪১ Time View

1751845655 ae566253288191ce5d879e51dae1d8c3

1751845655 ae566253288191ce5d879e51dae1d8c3

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সম্প্রতি “আমেরিকা পার্টি” নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মাস্কের এ উদ্যোগকে “হাস্যকর” বলে অভিহিত করেছেন এবং তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি দুই দল নিয়েই সবচেয়ে ভালোভাবে চলে, তৃতীয় দল কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায়।”

গত শনিবার ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমেরিকা পার্টি’র ঘোষণা দেন। মাস্ক জানান, রিপাবলিকানদের কর-কাট এবং বিপুল ব্যয়ের বাজেট পরিকল্পনা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁর ভাষায়, “যদি এই পথে যাওয়া হয়, তাহলে আমেরিকা দেউলিয়া হয়ে যাবে।” মাস্কের মতে, তিনি একটি দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতমুখী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চান।

এই ঘোষণার পরদিনই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে মাস্কের দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, তৃতীয় দল গঠনের চিন্তা হাস্যকর। আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে এটা সবসময়ই দুটি দলের খেলা ছিল। রিপাবলিকান পার্টি বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সফল। ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা পথ হারিয়েছে, তবে এটা এখনো দুটি দলের সিস্টেম। তৃতীয় দল কখনোই তেমন কিছু করতে পারেনি। মাস্ক এটা নিয়ে যদি মজা করতে চান, করতেই পারেন। তবে আমি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিই না।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মাস্কের নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রাকে তিনি হুমকি হিসেবে দেখছেন না, বরং অবাস্তব ও অকার্যকর প্রয়াস হিসেবে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মাস্ক লক্ষ লক্ষ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। এমনকি ওভাল অফিস এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন বৈঠকে মাস্কের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের ব্যয়নীতি এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে মাস্কের কড়া সমালোচনা শুরু হয়। এই মতবিরোধ থেকেই দুইজনের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরে এবং শেষমেশ মাস্ক ট্রাম্প থেকে নিজেকে আলাদা করে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের এই নতুন উদ্যোগ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনই বলা কঠিন হলেও, এটি রিপাবলিকানদের ভেতর বিভাজনের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মাস্কের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং প্রযুক্তি খাতে তার বিশাল প্রভাব নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক জাগরণ ঘটাতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত ‘আমেরিকা পার্টি’র কাঠামো, আদর্শিক অবস্থান, প্রার্থী নির্বাচন বা নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। মাস্ক জানিয়েছেন, দলটি একটি উদারনৈতিক প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকেই অগ্রসর হবে এবং ‘পপুলিজম’ ও ‘অর্থনৈতিক দায়িত্ববোধ’-এর ভারসাম্য রক্ষা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত শতাব্দীতে তৃতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। রস পেরো, র‍্যালফ ন্যাডার বা জিল স্টেইনের মতো ব্যক্তিত্বরা তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেও নির্বাচনী মাঠে বড় দুই দলের আধিপত্য ভাঙতে পারেননি।

তবে ইলন মাস্কের মতো এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ নিঃসন্দেহে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ কেবল মাস্কের একটি ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: বললেন, ‘এটা হাস্যকর’

Update Time : ১০:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

1751845655 ae566253288191ce5d879e51dae1d8c3

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সম্প্রতি “আমেরিকা পার্টি” নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মাস্কের এ উদ্যোগকে “হাস্যকর” বলে অভিহিত করেছেন এবং তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি দুই দল নিয়েই সবচেয়ে ভালোভাবে চলে, তৃতীয় দল কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায়।”

গত শনিবার ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমেরিকা পার্টি’র ঘোষণা দেন। মাস্ক জানান, রিপাবলিকানদের কর-কাট এবং বিপুল ব্যয়ের বাজেট পরিকল্পনা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁর ভাষায়, “যদি এই পথে যাওয়া হয়, তাহলে আমেরিকা দেউলিয়া হয়ে যাবে।” মাস্কের মতে, তিনি একটি দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতমুখী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে চান।

এই ঘোষণার পরদিনই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে মাস্কের দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি, তৃতীয় দল গঠনের চিন্তা হাস্যকর। আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে এটা সবসময়ই দুটি দলের খেলা ছিল। রিপাবলিকান পার্টি বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সফল। ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা পথ হারিয়েছে, তবে এটা এখনো দুটি দলের সিস্টেম। তৃতীয় দল কখনোই তেমন কিছু করতে পারেনি। মাস্ক এটা নিয়ে যদি মজা করতে চান, করতেই পারেন। তবে আমি বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিই না।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, মাস্কের নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রাকে তিনি হুমকি হিসেবে দেখছেন না, বরং অবাস্তব ও অকার্যকর প্রয়াস হিসেবে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মাস্ক লক্ষ লক্ষ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। এমনকি ওভাল অফিস এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন বৈঠকে মাস্কের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের ব্যয়নীতি এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে মাস্কের কড়া সমালোচনা শুরু হয়। এই মতবিরোধ থেকেই দুইজনের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরে এবং শেষমেশ মাস্ক ট্রাম্প থেকে নিজেকে আলাদা করে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের এই নতুন উদ্যোগ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনই বলা কঠিন হলেও, এটি রিপাবলিকানদের ভেতর বিভাজনের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, মাস্কের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং প্রযুক্তি খাতে তার বিশাল প্রভাব নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক জাগরণ ঘটাতে পারে।

তবে এখনো পর্যন্ত ‘আমেরিকা পার্টি’র কাঠামো, আদর্শিক অবস্থান, প্রার্থী নির্বাচন বা নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। মাস্ক জানিয়েছেন, দলটি একটি উদারনৈতিক প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকেই অগ্রসর হবে এবং ‘পপুলিজম’ ও ‘অর্থনৈতিক দায়িত্ববোধ’-এর ভারসাম্য রক্ষা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত শতাব্দীতে তৃতীয় রাজনৈতিক দল গঠনের অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। রস পেরো, র‍্যালফ ন্যাডার বা জিল স্টেইনের মতো ব্যক্তিত্বরা তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলেও নির্বাচনী মাঠে বড় দুই দলের আধিপত্য ভাঙতে পারেননি।

তবে ইলন মাস্কের মতো এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তির রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ নিঃসন্দেহে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ কেবল মাস্কের একটি ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।