বিশ্বকাপে খেলতে চাই: বাফুফের সংবর্ধনায় নারী ফুটবলারদের দৃঢ় প্রত্যয়
- Update Time : ১১:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
- / ২৬৬ Time View

ইতিহাস গড়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিজয়ী মেয়েদের মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখে ছিল নতুন স্বপ্নের দীপ্তি—বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা।
মধ্যরাতের সংবর্ধনা, গর্বে ভাসল হাতিরঝিল
মিয়ানমার থেকে ব্যংকক হয়ে রোববার (৭ জুলাই) মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সদস্যরা। রাত আড়াইটার দিকে তাদের বহনকারী বাস হাতিরঝিলের উদ্দেশে রওনা দেয়। পৌঁছেই তারা যোগ দেন এম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত বাফুফের তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
মঞ্চে তাদের বরণ করে নেন বাফুফের সভাপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। ক্লান্তি সত্ত্বেও মেয়েদের মুখে ছিল বিজয়ের হাসি, আর দর্শকদের ভালোবাসায় ছিল আবেগঘন মুহূর্তের ছোঁয়া। মঞ্চের সামনে রাখা ছিল একটি বিশাল বোর্ড, তাতে লেখা ছিল—“Qualified”। জাতীয় পতাকা হাতে তুলে দেওয়ার সময় যেন পুরো জাতির স্বপ্নটাই তুলে দেওয়া হলো তাদের হাতে।
ঋতুপর্ণা ও আফঈদার কণ্ঠে বিশ্বমঞ্চের প্রত্যয়
অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন,
“আজকের এই অর্জন পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। ফুটবল ব্যক্তিগত খেলা নয়—এটি একটি দলীয় যুদ্ধ। আমরা লড়েছি, জয় করেছি এবং এখন আমাদের লক্ষ্য আরও বড়। শুধু এশিয়ায় নয়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চেও আমরা বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাই। দেশের মানুষ আমাদের ওপর ভরসা রাখুন, আমরা আপনাদের গর্বিত করব।”
অপরদিকে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তিও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,
“এতো রাতেও যে সবাই আমাদের বরণ করতে এসেছে, সেটি আমাদের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। কিরণ ম্যাডাম, তাবিথ স্যার ও বাফুফের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই মুহূর্ত কখনো ভুলব না। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না, আমরা চাই বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উড়াতে।”

কোচ পিটার বাটলার: ‘মেয়েরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে’
দলের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার ছিলেন আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন,
“এটা শুধুমাত্র একটি কঠিন সপ্তাহ ছিল না, বরং কঠিন এক যাত্রা ছিল। গত কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমের ফল এই অর্জন। অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছি আমরা। কিন্তু মেয়েদের প্রশংসা করতেই হবে—তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“সমর্থকরা আমাদের অনুপ্রেরণার বড় উৎস। এত রাতে এই সংবর্ধনায় তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে—এই দেশ নারী ফুটবলকে ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার প্রতিদান এই মেয়েরা মাঠেই দেবে।”
বাফুফে কর্তাদের আশ্বাস
বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলকে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার জন্য আরও পেশাদার ও কাঠামোগতভাবে গড়ে তোলা হবে। জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, আন্তর্জাতিক সফর, এবং উচ্চ পর্যায়ের কোচিং নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা প্রণয়ন চলছে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই অর্জন শুধু একটি খেলার জয় নয়, বরং এটি সামাজিক বাধা-বিপত্তি, কাঠামোগত সংকট ও দীর্ঘদিনের অবহেলার বিরুদ্ধে এক সাহসী জবাব। মেয়েরা প্রমাণ করেছে—সংগ্রাম থাকলেও সাফল্য সম্ভব। এখন তাদের চোখ আরও বড় লক্ষ্যে, আর সেই লক্ষ্যের নাম—“ফিফা নারী বিশ্বকাপ“।
এই লড়াইয়ে তাদের পাশে থাকা এখন শুধু বাফুফে বা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নয়—এটি পুরো জাতির দায়িত্ব। কারণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু ফুটবল নয়, এটি একটি দেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্পও।
তথ্যসূত্র: বাফুফে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল,现场 সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।





এই নাহয় বাংলাদেশ, এগিয়ে যাও 🇧🇩
I like football