সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিখতেই হবে, ছাত্রদের আন্দোলন আমাদের প্রজা থেকে নাগরিক করেছে”: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. রফিকুল আবরার

ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : ০৫:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ১৯৫ Time View

abrar inqilab wadud 20250707154914

abrar inqilab wadud 20250707154914

কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেছেন, “প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শেখার বিকল্প নেই। এখনই সময় হাতে-কলমে কাজ শেখার। আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার, আর সেই বাংলাদেশের নির্মাতা হবেন কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ছাত্রছাত্রীরা।”

সোমবার (৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার গকুলদাশের বাগ এলাকায় অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন জরুরি

ড. রফিকুল বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করে তুলতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করাও এখন সময়ের দাবি। মাদরাসার ছাত্ররা যেন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তারা যেন কারিগরি দক্ষতায়ও সমানভাবে পারদর্শী হয়—এটাই রাষ্ট্রের প্রত্যাশা। সরকার এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদরাসাগুলোর শিক্ষকরাও এখন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। তারা নিজেরাই চান যেন শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।”

আমরা সময়ের শেষ প্রান্তে, কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “এই সরকারের হাতে সময় খুব সীমিত। তবু আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু কার্যকর পরিবর্তন আনার। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—এই স্বল্প সময়ে দেশের শিক্ষার ভিত মজবুত করতে। ইতোমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের সময় শেষ হওয়ার আগেই দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন জনগণকে উপহার দিতে।”

জুলাই আন্দোলন: প্রজা থেকে নাগরিক হয়ে ওঠার পথ

জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে আবেগময় কণ্ঠে ড. রফিকুল আবরার বলেন, “জুলাই মাসেই আমরা দেখেছি ছাত্রদের ঐতিহাসিক ভূমিকা। শ্রমিক, শিক্ষক, অভিভাবক—সবার অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের হাত ধরেই আমাদের নাগরিক চেতনার জাগরণ ঘটেছে। আমরা যারা রাষ্ট্রের নাগরিক ছিলাম, ধীরে ধীরে প্রজায় পরিণত হচ্ছিলাম। এই ছাত্ররাই আমাদের সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করেছে। তারা আমাদের হাতে একটি নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আজ আমাদের কাঁধে। আমরা শুধু অস্থায়ী কর্তৃত্ব প্রয়োগ করছি না—আমরা একটি কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ দেখাবে।”

শিক্ষা হবে কর্মমুখী, নৈতিক মানবিক

নতুন শিক্ষা দর্শন সম্পর্কে ড. আবরার বলেন, “আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, যা শিক্ষার্থীদের ভেতরের সৃজনশীলতা, মানবিকতা এবং নৈতিকতাকে জাগ্রত করবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তব জীবনে টিকে থাকার দক্ষতা অর্জন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা। এই ধরনের শিক্ষাই আমাদের শিক্ষানীতির ভিত্তি হতে হবে।”

উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও ভোকেশনাল কলেজের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন মিঞা। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মমুখী ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো—বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শুধুমাত্র বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার চর্চা নয়, বরং তার ভীত নির্মাণ ও কাঠামোগত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষাকে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক করতে চায় তারা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

One thought on ““প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিখতেই হবে, ছাত্রদের আন্দোলন আমাদের প্রজা থেকে নাগরিক করেছে”: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. রফিকুল আবরার

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

“প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিখতেই হবে, ছাত্রদের আন্দোলন আমাদের প্রজা থেকে নাগরিক করেছে”: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. রফিকুল আবরার

Update Time : ০৫:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

abrar inqilab wadud 20250707154914

কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেছেন, “প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শেখার বিকল্প নেই। এখনই সময় হাতে-কলমে কাজ শেখার। আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার, আর সেই বাংলাদেশের নির্মাতা হবেন কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ছাত্রছাত্রীরা।”

সোমবার (৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার গকুলদাশের বাগ এলাকায় অবস্থিত জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন জরুরি

ড. রফিকুল বলেন, “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করে তুলতে হবে। মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করাও এখন সময়ের দাবি। মাদরাসার ছাত্ররা যেন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তারা যেন কারিগরি দক্ষতায়ও সমানভাবে পারদর্শী হয়—এটাই রাষ্ট্রের প্রত্যাশা। সরকার এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদরাসাগুলোর শিক্ষকরাও এখন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। তারা নিজেরাই চান যেন শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।”

আমরা সময়ের শেষ প্রান্তে, কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “এই সরকারের হাতে সময় খুব সীমিত। তবু আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু কার্যকর পরিবর্তন আনার। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—এই স্বল্প সময়ে দেশের শিক্ষার ভিত মজবুত করতে। ইতোমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের সময় শেষ হওয়ার আগেই দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন জনগণকে উপহার দিতে।”

জুলাই আন্দোলন: প্রজা থেকে নাগরিক হয়ে ওঠার পথ

জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে আবেগময় কণ্ঠে ড. রফিকুল আবরার বলেন, “জুলাই মাসেই আমরা দেখেছি ছাত্রদের ঐতিহাসিক ভূমিকা। শ্রমিক, শিক্ষক, অভিভাবক—সবার অংশগ্রহণে একটি সর্বজনীন আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের হাত ধরেই আমাদের নাগরিক চেতনার জাগরণ ঘটেছে। আমরা যারা রাষ্ট্রের নাগরিক ছিলাম, ধীরে ধীরে প্রজায় পরিণত হচ্ছিলাম। এই ছাত্ররাই আমাদের সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করেছে। তারা আমাদের হাতে একটি নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আজ আমাদের কাঁধে। আমরা শুধু অস্থায়ী কর্তৃত্ব প্রয়োগ করছি না—আমরা একটি কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ দেখাবে।”

শিক্ষা হবে কর্মমুখী, নৈতিক মানবিক

নতুন শিক্ষা দর্শন সম্পর্কে ড. আবরার বলেন, “আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা দরকার, যা শিক্ষার্থীদের ভেতরের সৃজনশীলতা, মানবিকতা এবং নৈতিকতাকে জাগ্রত করবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তব জীবনে টিকে থাকার দক্ষতা অর্জন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করা। এই ধরনের শিক্ষাই আমাদের শিক্ষানীতির ভিত্তি হতে হবে।”

উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও ভোকেশনাল কলেজের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন মিঞা। বক্তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মমুখী ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো—বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শুধুমাত্র বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার চর্চা নয়, বরং তার ভীত নির্মাণ ও কাঠামোগত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষাকে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক করতে চায় তারা।